Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ডেভিল হান্টের নামে বাংলাদেশে আওয়ামি লিগ কর্মীদের ধরপাকড়

ডেভিল হান্টের নামে বাংলাদেশে আওয়ামি লিগ কর্মীদের ধরপাকড়
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা: আশঙ্কাই যেন সত্যি হল! বাংলাদেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরুর কথা জানিয়েছিল ইউনুস সরকার। আওয়ামি লিগ তখনই অভিযোগ তুলেছিল, এই অভিযানের আড়ালে তাদের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু হবে। বাস্তবে তাই ঘটল। রবিবার সারা দেশে সেনা ও পুলিসের যৌথ অভিযানে ১ হাজার ৩০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধুমাত্র গাজিপুর শহর থেকেই ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মী। এদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভেঙে দেওয়া নিয়ে ভারতের মন্তব্য অনভিপ্রেত বলে দাবি করল বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। বুধবার রাতে ৩২, ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন গুঁড়িয়ে দেয় মৌলবাদীরা। ওই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছিল ভারত। রবিবার ঢাকা জানিয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ভারতের এমন প্রতিক্রিয়া ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’।
Advertisement
শুক্রবার রাতে গাজিপুর শহরেই প্রথম প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল ‘বৈষম্যবিরোধী’ ছাত্ররা। আওয়ামি লিগের নেতার বাড়ি ভাঙতে গিয়ে মারধর খেতে হয় তাদের। তারপরেই ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর কথা ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। প্রশ্ন উঠেছিল, ছাত্রদের তাণ্ডবকে বৈধতা দিতেই এই অভিযানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযানকে কেন্দ্র করে রবিবার গাজিপুরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। গাজিপুরের পাশাপাশি নোয়াখালি, খাগড়াছড়ি, সিরাজগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও আওয়ামি লিগ, ছাত্র লিগের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের খবর মিলেছে। এছাড়া এই অভিযানে একাধিক শীর্ষ প্রাক্তন পুলিস কর্তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে তাঁদের 
বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছিল ‘বৈষম্যবিরোধী’রা। কুমিল্লায় এক যুবলিগ কর্মীকে না পেয়ে তাঁর স্কুলছাত্র ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে আওয়ামি লিগ। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ডেভিল হান্ট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম চৌধুরি এদিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে যারা অস্থির করতে চাইছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদিকে, বাংলাদেশে ‘মব সংস্কৃতি’ বন্ধ করতে ও আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এই নিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় নামতে চলেছে তারা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ