নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে ডিমবৃষ্টি চলছেই। কিন্তু তারমধ্যেই মঙ্গলবার ভিন্ন ভূমিকায় দেখা গেল পুলিশকে। ডিম ছুড়তে আসা জনতাকে পুলিশ কর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, অসভ্যতা বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ডিমবৃষ্টির ধারাবাহিকতার মধ্যে বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল ডানকুনি। পুলিশের হুমকির মুখে ডানকুনিতে শেষপর্যন্ত পিছু হটল ডিম থেরাপির প্রস্তুতি নেওয়া উত্তেজিত জনতা। মঙ্গলবার ডানকুনি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলারের পাশাপাশি বিক্ষোভের মুখে পড়েন শ্রীরামপুরের এক মহিলা কাউন্সিলারও। তবে দিনের শেষে চর্চায় এসেছেন ডানকুনি থানার আইসি শান্তনু সরকার। বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে কোনো মন্তব্য করতে চাননি শান্তনুবাবু।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার দুপুরে। ডানকুনি পুরসভার বিভিন্ন এলাকায় জমা জলের সমস্যা পুরানো। সম্প্রতি তাতে জুড়েছে পুরসভার অব্যবস্থা। মঙ্গলবার নিকাশি ও সাফাই সমস্যা নিয়ে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষিণ সুভাষপল্লির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে হাজির হয়েছিলেন স্থানীয়রা। তাঁদের মধ্যে অনেকেই হাতে করে ডিম নিয়ে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে এলাকায় চলে আসেন ডানকুনি থানার আইসি শান্তনুবাবু। তিনি এলাকায় এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু উত্তেজিত জনতাকে আটকানো কঠিন হচ্ছিল। তখনই তিনি মাইকে ঘোষণা করতে শুরু করেন। বলেন, ডানকুনি জনপদ তার সভ্য ব্যবহারের জন্য পরিচিত। এখানে কোনো অসভ্যতা বরদাস্ত করব না। আপনারা যা করতে চাইছেন, সেভাবে বিচার পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট অভিযোগ করুন, পুলিশ পদক্ষেপ করবে। অন্য কিছু মেনে নেব না। এরপরেই পিছু হটতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। বস্তুত সাম্প্রতিক সময়ে ডিমবৃষ্টির ধারাবাহিকতার প্রস্তুতি ডানকুনিতে থাকলেও শেষপর্যন্ত ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে কাউন্সিলার অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দেবাশিসবাবু বলেন, নিকাশি নিয়ে একটি টেন্ডার করা হয়েছে। সেটা বিক্ষোভাকারীদের দেখিয়েছি। তারপরও তাঁরা ডিমবৃষ্টির মতো পদক্ষেপ করে আক্রোশ মেটাতে চাইছিলেন।
এদিকে, এদিনই শ্রীরামপুরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শর্মিষ্ঠা দাসের অফিসে নাগরিকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। ওই কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে খেলার মাঠ দখল, বেহাল রাস্তা সহ একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন নাগরিকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় আসতে হয় পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূল নেতা গিরিধারী সাহাকে। তিনি স্থানীয়দের যাবতীয় দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি আয়ত্তে আসে।