নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মূর্ত থেকে অমূর্ত, নানা থিমের মোহময় আবেদন এবার ডানকুনিজুড়ে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও মহাভারত আশ্রয় করে তো কোথাও থিমের সমাবেশ। আবার কেউ হুগলির ঐতিহ্য এবং বাংলার ভক্তিযোগের ধারার অন্যতম পথিকৃৎ মা সারদার ভিটেকে থিম করেছে। আলো থেকে মণ্ডপসজ্জা এবং প্রতিমার গড়নেও তাক লাগানোর পাশাপাশি পরস্পরকে টেক্কা দিতে কোমর বেঁধেছেন উদ্যোক্তারা।
ডানকুনির মিলনি উন্নয়ন সমিতির এবারের থিম, সময়। জীবন সময়ের কাঁটায় বাঁধা আছে। উদ্যোক্তার ঘড়ি ও জীবনের সময়কালীন গতির ভাবগত দিক, দু’টিকেই থিমে তুলে ধরেছেন। থিমে অ্যাবস্ট্রাক্ট প্রভাব। যেখানে সময় নির্দেশিক আওয়ার গ্লাসকে পিরামিডের আদলে ধরে মণ্ডপসজ্জা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে চিন্তা ও চৈতন্যের বদলকে ধরতে অনেকগুলি মানবমস্তিষ্ককে মডেল করা হয়েছে। যেখানে ঘড়ির মধ্যেকার একাধিক চক্রাকার যন্ত্রের আদলের সমাবেশ। একগুচ্ছ মই’তে জীবনের সাপ-লুডো খেলার ইঙ্গিত ধরা থাকছে। মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে দু’টি বিরাট আয়তন ঘড়ি। বাইরের ঘড়ির ডায়ালে বিশ্বের মানচিত্রের আদল। অর্থাৎ সর্বজনীন পুজোতে বিশ্বজনীন ‘সময়’কে ধরা হয়েছে। থাকছে সময়ের নিয়ন্ত্রক গ্রহ, নক্ষত্রের আকার। পুজো উদ্যোক্তা পার্থসারথি নন্দী বলেন, ‘আমাদের প্রতিমা সাবেক ধাঁচার। তার সঙ্গে থাকবে থিমের সঙ্গে মানানসই আলোকসজ্জা।’
সময়ের বর্ণময় রংমহল পেরিয়ে ডানকুনির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছে গেলে মিলবে মা সারদার শৈশবের ইতিহাস। ডানকুনির বুকে একটুকরো জয়রামবাটি তুলে আনছে কালীপুর মা চণ্ডীতলা সর্বজনীন। মা সারদার ঘর, তাঁর মায়ের ঘর, রান্নাঘর, বাড়ির চাতাল, সবই ফুটে উঠছে অবিকল। নিকোনো উঠোনে আলপনা। মাটি, চট, বাঁশ, কাঠ, খড় সহ নানা উপাদানে অবিকল মায়ের বাড়ি তৈরির কোনও ত্রুটি শিল্পীরা রাখছেন না। মা’য়ের সেই বাড়ির চাতালেই থাকবেন দেবী দশভুজা। সাবেক ধাঁচার দেবী প্রতিমা লালপেড়ে সাদা শাড়িতে সাজবে। আলোকসজ্জাতেও থাকছে থিমের অনুকরণ। পুজো উদ্যোক্তা সৌরভ বাগ বলেন, ‘১৬০০ স্কোয়ার ফুটের জমিতে মায়ের আস্ত বাড়িটি আমরা তুলে এনেছি। দর্শকরা সেই পুণ্যভূমির পরশ পাবেন।’
ডানকুনির অন্যতম বিগ বাজেটের পুজোর আয়োজক ডানকুনি স্পোটিং ক্লাব। সেখানকার মাঠে এবার বিরাট আয়তনের রথ নিয়ে হাজির মহাভারতের অর্জুন। অর্জুনের সেই রথই উদ্যোক্তাদের থিম।
মেদিনীপুরের মণ্ডপসজ্জার নিজস্ব ধারায় সেই রথকেই মণ্ডপ করে তোলা হয়েছে। বিরাট আয়তনের মণ্ডপ, বর্ণময় সাজসজ্জার সেই মণ্ডপ দূর থেকে মাথা তুলে হাতছানি দিতে শুরু করেছে। সামনের অংশে বিশেষভাবে রং করে রথের প্রতিফলন সৃষ্টি করা হয়েছে। সাবেক ধাঁচার প্রতিমাকেও নানা সাজে করে তোলা হয়েছে রাজরাজেশ্বরী। মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতে পাট ও সুতোর নিপুণ কারুকার্য। পুজো উদ্যোক্তা পার্থ ঘোষ বলেন, ‘শিল্পনিপুণ মণ্ডপসজ্জা আর মানানসই আলোকসজ্জা দর্শকদের জন্য সাজিয়ে বসেছি আমরা।’
চলছে শেষবেলার তুলির টান। ইতিমধ্যেই দর্শকদের অলস আনাগোনার জেরে রাতের ডানকুনিতে কোলাহল বাড়ছে। সাজো আর সাজাওয়ের টানে দ্রষ্টব্য এবং দর্শক, দুই মহলেই উত্তেজনা তুঙ্গে।