নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাংলা, বাঙালি ও তার ভাষা, এই মুহূর্তে এ রাজ্যে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়। সেই চর্চাকেই খানিকটা ঘুরিয়ে থিমের আদলে পেশ করছেন হুগলির একাধিক পুজো উদ্যোক্তা। তাঁদের বক্তব্য, ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বাংলা, বাঙালি, বাঙলার সংস্কৃতিকে আধার করে থিম করা হয়েছে। থিম নির্মতারাও সমর্থন করছেন সেই বক্তব্য। ফলত, সমকালকে ধরে ঐতিহ্য চেতনাকে ফল্গুধারার মতো বইয়ে থিমের পসরা সাজছে এমনটি বলাই যায়।
হুগলির ঐতিহ্যশালী একটি জনপদ চণ্ডীতলা। সেখানকার বাজার এলাকার নবজাগরণ সঙ্ঘের এবারের থিম ‘বাংলা আমার প্রাণ (সহজপাঠ)’। মণ্ডপ সজ্জায় ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলা বর্ণমালা। থাকছে বাংলার খ্যাতনামা বইয়ের কোলাজ। আসলে বাংলার ঐতিহ্যের শিকড়, সুজলাং সুফলাং বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে দেবী দশভুজা হাজির হবেন। মেঠো পথ, মেঠো জীবন কিন্তু সহজের সেই সমান্তরালে বয়ে যায় সহজপাঠের গল্প। বাংলা ভাষা এই মেঠো পথ থেকে বিশ্বের দরবারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেই গল্পটিকেই আধার করে মণ্ডপ ও প্রতিমাসজ্জায় নেমেছেন থিম নির্মাতা রমেশ মালিক। বাংলার গ্রাম্য বধূ মানেই দশভুজা। তিনি সন্তান বৎসল। সেই মায়ের রূপেই দেবীর রূপ প্রতিফলিত হবে। আলোকসজ্জাতেও থাকবে গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ক্লাব কর্তা সুবীর মুখোপাধ্যায় তৃণমূলের নেতা। জেলা পরিষদের মেন্টরও। তিনি বলেন, আমাদের রক্তে বাংলা ভাষা। বাংলা আমাদের ঐতিহ্য। এবার আমাদের দুর্গোৎসব বাঙালিয়ানার মহাপার্বণ হয়ে আত্মপ্রকাশ করবে।
বাংলার বই। বাংলাতেই আছে খ্যাতনামা বইপাড়া। বাঙালির সে ঐতিহ্যই এবার ডানকুনির নিউ রামকৃষ্ণ পল্লির বাঘাযতীন স্পোটিংয়ের থিম। কলেজ পড়ুয়া স্নেহা কুণ্ডু এই এলাকার বাসিন্দা। তিনিই থিমের মূল পরিকল্পনাকারী। থিমের নাম, ‘জ্ঞানের আঁধারে বুকের পাঁজরে দারুণ মর্মব্যথা’। আস্ত বইপাড়াকে (কলেজ স্ট্রিট) তুলে আনছেন উদ্যোক্তারা। বই তো আছে কিন্তু তাতে থাকা জ্ঞান কি সবাইকে সমৃদ্ধ করছে? সমকালীন সময় বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষা নিয়ে বিতর্কের পরিমণ্ডলে সেই প্রশ্নটিই তুলতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। দেবী দশভুজা এখানে থিমের অনুকরণে ভক্ত সমাগমে প্রকাশিত হবেন। আলোকসজ্জাও থাকবে থিমের সঙ্গে মানানসই হয়ে। সবমিলিয়ে ভিন্ন রকমের থিম নিয়ে হাজির হবে বাঘাযতীন স্পোর্টিং। ক্লাবকর্তা তথা ডানকুনি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা বলেন, বাংলার সংস্কৃতি অগাধ জ্ঞানভাণ্ডার। তবুও বাংলা ও বাঙালি নিয়ে অজ্ঞানতার অন্ত নেই। এই পরিসরেই আমরা দেবী বন্দনার আয়োজন করেছি।
সময়, সভ্যতার সবচেয়ে জাগ্রত শব্দ। থিম সংস্কৃতিও সেই বহমান ধারায় নেমে পড়ছে। বিনোদন আর ভক্তির মণ্ডপেও সম্মানিত হচ্ছে সমকাল। পুজো মরশুমেও দেবীর তৃতীয় নেত্রের মতো উদ্ভাসিত হচ্ছে এক ভিন্ন ধারা। হুগলিতে জমজমাট হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে বাঙালির সেরা উৎসব।