


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুর শহরে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় ইসকনের রথযাত্রা। ২০১১সাল থেকে ইসকন ভক্তদের উদ্যোগে শহরে এই রথযাত্রা শুরু হয়। প্রতিবছর বহরমপুর টেক্সটাইল মোড় থেকে রথের চাকা গড়ানো শুরু হয়। এবারও সমস্ত রীতি মেনে, নিষ্ঠার সঙ্গে রথযাত্রা হবে।
ইসকনের তরফে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে তিনটি আলাদা সুসজ্জিত রথে নিয়ে শোভাযাত্রা হবে। দুপুর থেকেই এই রথযাত্রা দেখতে পথের দু’ধারে ভক্তদের ঢল নামে। শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমার পর দশমুণ্ড কালীবাড়ির মাঠে রথ পৌঁছয়। উল্টোরথ অবধি রথ সেখানেই থাকে।
বহরমপুর শহরের ছোটবড় সবাই এই রথযাত্রা ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন। সুন্দর সাজসজ্জা সহ বহু নৃত্যশিল্পী রথযাত্রায় অংশ নেন। বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ে মহিলা ও শিশুরা নৃত্য প্রদর্শন করে।
আয়োজকরা জানান, প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ রথের রশি ধরে সারা শহর পরিক্রমা করেন। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এই রথযাত্রা দেখতে আসেন। অনেকেই রাস্তার ধারে অস্থায়ী দোকান সাজান। সেজন্য এই রথযাত্রা ঘিরে বিশাল পুলিসি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে।
বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানের পাশে টেক্সটাইল কলেজ মোড়ে অস্থায়ী দোকান দেন গান্ধী কলোনির বাসিন্দা সুবল দাস ও রত্না মণ্ডলরা। তাঁরা বলেন, প্রতিবছর রথের দিন এখানে পাঁপড় এবং জিলিপির দোকান দিই। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টায় প্রায় হাজারখানেক টাকা লাভ করি। এবারও রথযাত্রায় দোকান দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। গোরাবাজারের নৃত্যশিল্পী মুনমুন ঘোষ বলেন, রথ উপলক্ষ্যে প্রতিবছর ইসকনের শোভাযাত্রায় আমরা অংশ নিই। আমাদের নাচের দলের সমস্ত সদস্যই একইরকম পোশাক পরে ডান্ডিয়া নৃত্য প্রদর্শন করেন। প্রতিবছর হাজার হাজার দর্শক আমাদের নাচ দেখেন। এবারও আমাদের নতুন প্রযোজনা দর্শকদের সামনে তুলে ধরব।
- বহরমপুরে ইসকনের রথ। ফাইল ছবি