


নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরে জঙ্গি ঘাঁটির পাশাপাশি পাক সেনার একাধিক ‘ইনস্টলেশন’ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। প্রত্যাঘাতের আতঙ্ক থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি পাকিস্তান। এরমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির স্মৃতিচিহ্ন আড়াল করতে সমস্ত সেনা-বায়ুসেনা ঘাঁটি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে পাকিস্তান। অপারেশন সিন্দুরের পরবর্তী সময় একাধিক উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। তাতেই অত্যাধুনিক বিজ্ঞানের যুগে ইসলামাবাদের এই হাস্যকর প্রচেষ্টা বেআব্রু হয়েছে।
তথ্য বলছে, অপারেশন সিন্দুরে ক্ষতিগ্রস্ত সেনা ঘাঁটিগুলির মধ্যে অন্তত তিনটিকে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দিতে দেখা গিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে মুরিদ, জাকোবাবাদ ও ভোলারি। কোথাও কোথাও বিল্ডিংয়ের ছাদে ওই ত্রিপল লাগানো হয়েছে। কোথাও আবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঢেকে দিয়েছে পাক সেনা। সিন্ধের ভোলারি বায়ুসেনা ঘাঁটির একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সেটি গত ৪ জুন উপগ্রহ থেকে তোলা। তাতে দেখা যাচ্ছে, ভাঁজ পড়া কোনও সামগ্রী দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হ্যাঙ্গারের ছাদ ঢাকা। একই জিনিস নজরে এসেছে পাঞ্জাবের মুরিদ ঘাঁটিতেও। গত ১০ মে এই ঘাঁটির কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারে আঘাত হেনেছিল ভারত। ২ জুনের উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সবুজ ত্রিপল দিয়ে ওই অংশটি আড়াল করা চেষ্টা হয়েছে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা, ওই সেন্টারটি ফের তৈরি করা হচ্ছে কিংবা সেখানে ফের লুকিয়ে-চুরিয়ে কাজ শুরু করেছে পাক সেনা। জাকোবাবাদের পাক বায়ুসেনা ঘাঁটির ছবিও সামনে এসেছে। ভারতের হানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের এই ঘাঁটিটি। বর্তমানে সমস্ত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে গোটা এলাকা সাফসুতরো করে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিকতম ছবিতে তা স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে।
অপারেশন সিন্দুরের ক্ষয়ক্ষতি ঢাকতে পাক সেনার নয়া কৌশল প্রকাশ্যে এলেও তা মানতে নারাজ ইসলামাবাদ। এই নিয়ে হাসাহাসিও শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরনো এক হিন্দি গানের আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন এক সেনা কর্তা। তিনি বলেন, পর্দে মে রেহেনে দো, পর্দা না উঠাও। পর্দা যো উঠগায়া তো ভেড় খুল জায়গা। অর্থাৎ ত্রিপলের তলায় সত্য গোপন করতে চাইছে পাকিস্তান। সেটি সরে গেলেই সব প্রকাশ্যে চলে আসবে।