


সংবাদদাতা, লালবাগ: দীপান্বিতা অমাবস্যায় লালবাগ শহরের গোলাপবাগে ‘স্বপ্নের তরী’ কালীমাতা মন্দিরে দক্ষিণাকালীর পুজো সম্পন্ন হল। সোমবার গভীর রাত অবধি পুজো ও যাগযজ্ঞ চলে। পুজো ও অঞ্জলি দিতে লালবাগ শহরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর ভক্ত এসেছিলেন। দেবীকে খিচুড়ি, লুচি, পোলাও, পাঁচরকম ভাজা, পাঁচতরকারি, মুগ ডাল, পায়েস ও রকমারি মিষ্টান্ন দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে শতাধিক ভক্ত ও পথচারীদের মধ্যে প্রসাদ বিলি করা হয়।
লালবাগ মহকুমা হাসপাতালের ঠিক পাশেই এই মন্দির রয়েছে। ১৯৭৮সালে স্থানীয় কয়েকজন মিলে মুর্শিদাবাদ এস্টেটের ওই জায়গায় কালীপুজো শুরু করেন। প্রথমদিকে মন্দিরে বাঁশের দেওয়াল ও মাথায় টালির ছাউনি ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা নামতেই মন্দির অন্ধকারে ডুবে যেত। নিত্যপুজোর ব্যবস্থাও ছিল না। তবে সেসময় থেকেই প্রতি অমাবস্যার পাশাপাশি দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপুজো হয়ে আসছে। ২০০০সালের পর মন্দিরের শ্রীবৃদ্ধি হয়। বাঁশের দেওয়ালের বদলে ইটের পাকা দেওয়াল হয়েছে। মন্দিরে টিনের ছাউনিও দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকবছর আগে অস্থায়ী মন্দির কমিটি গঠন করে মায়ের নিত্যপুজো সহ সমস্ত ক্রিয়াকর্ম পরিচালনা করা হচ্ছিল। সম্প্রতি ছয় সদস্যের স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি পল্লব চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের কোনও তহবিল নেই। চেয়েচিন্তে পুজো চলছে। ইটের দেওয়াল হলেও ছাদ হয়নি। মন্দিরের উন্নয়নে মানুষের কাছে যাচ্ছি। কেউ কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেকের মনোবাসনা পূরণ হওয়ায় এই মন্দিরের ভক্তসংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবছর কালীপুজোয় অনেকে মানতের পুজো দিতে আসেন। মন্দির কমিটির সদস্য প্রীতমকুমার ঘোষ ও শুভ্র রায় বলেন, মা খুব জাগ্রত। তাই লোকমুখে এই মন্দিরের খ্যাতি দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। • নিজস্ব চিত্র