Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিচারিকার কাজ ছেড়ে তিলক সেবা, দীঘায় জগন্নাথ মন্দির চালু হতেই বাড়ল দৈনিক আয়

রোজগারের প্রয়োজনে গঙ্গাসাগরের শ্বশুরবাড়ি থেকে কলকাতায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করতেন বছর পঞ্চন্নর গীতা পাত্র। মাসের শেষে হাতে আসত সাত থেকে আট হাজার টাকা।

পরিচারিকার কাজ ছেড়ে তিলক সেবা, দীঘায় জগন্নাথ মন্দির চালু হতেই বাড়ল দৈনিক আয়
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘা: রোজগারের প্রয়োজনে গঙ্গাসাগরের শ্বশুরবাড়ি থেকে কলকাতায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করতেন বছর পঞ্চন্নর গীতা পাত্র। মাসের শেষে হাতে আসত সাত থেকে আট হাজার টাকা। একই অবস্থা চলছিল বছরের পর বছর। এসবের মধ্যেই ৩০ এপ্রিল দীঘায় উদ্বোধন হয় জগন্নাথ মন্দিরের। তারপরই পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে বাপের বাড়ি বেড়াতে এসে, পৌঁছে যান জগন্নাথ দর্শন করতে। দেখেন, কয়েকজন মহিলা মন্দিরের মূল ফটকের বাইরে পুণ্যার্থীদের তিলক সেবা দিচ্ছেন। অর্থাৎ, মন্দিরে প্রবেশের আগে তাঁদের কপালে চন্দনের তিলক পরিয়ে দিচ্ছেন এই মহিলারা। যাঁর যেমন ইচ্ছে তাঁদের হাতে দক্ষিণা দিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই পরিচারিকার কাজে ইতি টেনে তিনিও যোগ দেন তিলক সেবায়। জগন্নাথের কৃপায় বদলেছে জীবন। বেড়েছে রোজগার।

Advertisement

ওল্ড দীঘার বাসিন্দা শকুন্তলা ঘড়াইয়ের কাহিনিও অনেকটা একই। তিনিও দৈনিক মাত্র ১৫০ টাকা মজুরিতে পরিচারিকার কাজ করতেন দীঘার বিভিন্ন হোটেল ও লজে। শকুন্তলাও বর্তমানে তিলক সেবার কাজে যুক্ত। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তিলক সেবায় একলাফে আয় বেড়েছে। এক একজনের দৈনিক উপার্জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।মন্দিরের সামনে গেলেই দেখা মিলবে এমন ২০ থেকে ২৫ জনের। যাঁরা এই তিলক সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কোনও জোরজুলুম নেই। যে যেমন দেয় তাতেই সন্তুষ্ট ওঁরা। সর্বোপরি টাকার জন্য বাড়ি বাড়ি কাজ করতে যেতে হচ্ছে না। মন্দির গড়ে ওঠার পর সম্মানের সঙ্গে রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে বলেই তাঁরা জানিয়েছেন।  তবে শুধু তিলক সেবা নয়, অনেকেই বেছে নিয়েছেন পৃথক পেশা। কেউ বিক্রি করছেন পানীয় জলের বোতল। কারও রোজগার হচ্ছে পুণ্যার্থীদের জুতো রেখে। জুতো জমা রাখার জায়গা করা হয়েছে মূলত ছ’নম্বর গেটের কাছে। ফলে মূল ফটক দিয়ে যাঁরা প্রবেশ করছেন, তাঁদের জুতো রেখে যেতে হচ্ছে নিজের দায়িত্বেই। উদ্বোধনের পর থেকে ইতিমধ্যে এক হাজার বিদেশি পর্যটক এসেছেন। শীঘ্রই দীঘায় জগন্নাথ দর্শনে ফোর্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ফোর্ডের বংশধর অ্যালফ্রেড ফোর্ডও আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে  ইসকন সূত্রে খবর। গীতা, শকুন্তলাদের আশা, আগামী দিনে শ্রীবৃদ্ধি হবে জগন্নাথ মন্দিরের। সুফল পাবেন তাঁরাও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ