Bartaman Logo
৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কালীঘাটে স্টলপ্রতি রোজ ৩০ টাকা ‘তোলা’! অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা

কালীঘাটে তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বিরুদ্ধে হকারদের থেকে ৩০ টাকা ‘তোলা’ করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

কালীঘাটে স্টলপ্রতি রোজ ৩০ টাকা ‘তোলা’!  অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা
  • ৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীঘাট মন্দির চত্বর হবে দখলদার মুক্ত। মন্দিরে যাওয়ার রাস্তা দৃষ্টিনন্দন হবে। রাস্তার উপর থাকবে না কোনো হকার। স্কাইওয়াক দিয়ে যাতায়াত করবেন দর্শনার্থীরা। গাড়ি করে সহজেই স্কাইওয়াকের নীচের রাস্তা দিয়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে মন্দিরে। কালীঘাট মন্দিরের স্কাইওয়াক ঘিরে এভাবেই স্বপ্ন বুনেছিল প্রশাসন। সেভাবেই তৈরি হয় দৃষ্টিনন্দন স্কাইওয়াক, পাথর বসানো প্রশস্ত ফুটপাত, রাস্তার দু’ধারে রেলিং। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই স্কাইওয়াকের তলায় বেড়েছে হকারের দাপট। ফুটপাত দখল হয়েছে। উলটে অভিযোগ, স্কাইওয়াক তৈরির হওয়ার পর আগের তুলনায় হকারের সংখ্যা আরও বেড়ে গিয়েছে। মন্দিরে যাওয়ার মূল পথ কালী টেম্পেল রোডে হকারের বাড়বাড়ন্তে তিতিবিরক্ত স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে মন্দিরে আসা দর্শনার্থীরা। এই পর্বে রাস্তা দখল করে হকার বসিয়ে তাঁদের থেকে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বিরুদ্ধে। তাঁর সৌজন্যেই কালীঘাট, রাসবিহারী চত্বরে বেড়েছে হকারের দাপাদাপি। রাস্তায় স্টল লাগানোর জন্য তাঁকেই মোটা টাকা ‘দক্ষিণা’ দিতে হতো হকারদের। কালীঘাট এলাকায় হকারদের থেকে তোলা আদায়ের অভিযোগ তাই দক্ষিণ কলকাতার এই তৃণমূল নেতা ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে কালীঘাট থানায় সম্প্রতি অভিযোগও দায়ের হয়েছে। যাঁর দিকে অভিযোগের তির, সেই তৃণমূল নেতা কুমার সাহার অভিযোগ, তাঁকে বদনাম করতেই, এহেন ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।  

Advertisement

শুধু স্কাইওয়াকের তলায় কালী টেম্পেল রোড নয়, এস পি মুখার্জি রোড, সদানন্দ রোডের একাংশ, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, হাজরা রোড, কালীঘাট রোডের একাংশে রাস্তা দখল করে হকার বসিয়ে কুমার সাহা টাকা কামিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিভিন্ন রাস্তায় হকারদের থেকে প্রতি মাসে মোটা টাকা ‘তোলাবাজি’ করত এই সিন্ডিকেট। বিভিন্ন রাস্তার জন্য আলাদা আলাদা ‘লোক’ রয়েছে কুমারের। প্রতিটি হকার স্টল থেকে প্রতি পয়েন্ট বিদ্যুতের কানেশনের জন্য দিনপিছু ধার্য ১৫ টাকা। সারাদিন কারেন্ট জ্বললে সেটাই হতো দ্বিগুণ, ৩০ টাকা। কোনো স্টলে চারটে লাইন থাকলে দিতে হবে ৬০ টাকা। অর্থাৎ সারাদিনে আলো জ্বালালে ১২০ টাকা ‘তোলা’ দিতে হতো কুমারকে। এক একটি হকার স্টল বসাতে ন্যূনতন ৫০ হাজার টাকা থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত উঠত ‘রেট’! 
তৃণমূল ক্ষমতা হারাতেই এই অভিযোগে সোচ্চার হন হকাররা। তাঁদের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কালীঘাট থানায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশে অভিযোগ হওয়ার পর গত শনিবার থেকে বিভিন্ন জায়গায় হকার স্টলে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। হকারদের অভিযোগ, ফুটপাতে বসার জন্য প্রতি মাসে টাকা দিতে হত তাঁদের। এই টাকা তুলত কুমার সাহার সিন্ডিকেট। এই বিষয়ে কুমার সাহাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি হকার বসানোর কে! আমি মানুষকে সাহায্য করি। এখন ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। কালীঘাট, হাজরা, রাসবিহারী চত্বরে কত হকার রয়েছে, তার সম্পূর্ণ হিসাব পুরসভা-পুলিশের কাছে রয়েছে। সে সব খতিয়ে দেখা হোক।’ কুমারের দাবি, ‘ কার থেকে টাকা নিয়েছি, প্রমাণ দিয়ে জানানো হোক।’ পুলিশ সূত্রে খবর, তোলাবাজির এই সিন্ডিকেটের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে কালীঘাট থানা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ