Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খেজুরিতে নির্দল কাঁটা সরাতে গোপন বৈঠক করলেন ‘দাদা’, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনড় বিদ্রোহী বিজেপি কর্মীরা

১৯ মার্চ প্রার্থী ঘোষণার পর সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। তবুও খেজুরিতে বিজেপির প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ মিটছে না।

খেজুরিতে নির্দল কাঁটা সরাতে গোপন বৈঠক করলেন ‘দাদা’, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনড় বিদ্রোহী বিজেপি কর্মীরা
  • ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৮:০৩

শ্রীকান্ত পড়্যা, খেজুরি: ১৯ মার্চ প্রার্থী ঘোষণার পর সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। তবুও খেজুরিতে বিজেপির প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ মিটছে না। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো বিদ্রোহীরা নির্দল প্রার্থী হিসেবে সত্যজিৎ ভুঁইয়া নামে এক হাইস্কুল শিক্ষককে সামনে রেখে পুরোদমে ঘুঁটি সাজানো শুরু করে দিয়েছে। সত্যজিৎবাবু একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী। খেজুরি বিধানসভা কেন্দ্রে সুব্রত পাইককে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মানতে না পেরে বিদ্রোহীদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে ওই শিক্ষকও আন্দোলন করছেন। গেরুয়া শিবিরে যন্ত্রণা বাড়িয়ে আরও এক সুব্রত পা‌ইক তথা প্রাক্তন বিজেপি নেতা নির্দল প্রার্থী হচ্ছেনই। তিনি জানিয়েছেন, কোনো শক্তি তাঁকে এই সিদ্ধান্ত থেকে টলাতে পারবে না। কাঁথির নেতাদের কথাও শুনবেন না। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে হেঁড়িয়ার একটি গেস্ট হাউসে বিদ্রোহী বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসেন ‘দাদা’। তবে, দাদার ওই বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে, এদিন রাত পর্যন্ত স্পষ্ট জানা যায়নি।

Advertisement

খেজুরির বিধায়ক বিজেপির শান্তনু প্রামাণিকের মূল প্রতিপক্ষ হলেন দলেরই জেলা সম্পাদক পবিত্র দাস। পবিত্র আবার খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষও। শান্তনুকে খেজুরিতে ফের প্রার্থী না করার জন্য লাগাতার চেষ্টা করে গিয়েছেন পবিত্র। সেই চেষ্টায় তিনি সফল। শান্তনুকে খেজুরি থেকে সরিয়ে ভগবানপুর বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়েছে। এদিকে, পবিত্রকে প্রার্থী করলে বিস্তর ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই তাঁকে প্রার্থী না করে তাঁর শিবিরের নেতা হিসেবে পরিচিত জেলা পরিষদ সদস্য সুব্রত পাইকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এই সুব্রত পাইক সিপিএমের যুব সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২১ সালে বাজকুলে দিলীপ ঘোষের হাত থেকে গেরুয়া পতাকা নিয়েছিলেন।
সুব্রত পাইককে প্রার্থী হিসেবে মানতে না পেরে বিজেপির অনেকেই বিদ্রোহের রাস্তায় হেঁটেছেন। তাঁরা ২২ মার্চ বিদ্যাপীঠের রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেছিলেন। প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন। সেই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন খেজুরি জনকা গ্রাম পঞ্চায়েতের চালতাতলা গ্রামের সত্যজিৎ ভুঁইয়া। ইংরেজিতে এমএ, বিএড সত্যজিৎবাবু হাঁসচড়া হাইস্কুলের সহ শিক্ষক। নিজস্ব পত্রিকা আছে। নিজের লেখা বই আছে। সংস্কৃতি জগতের মানুষ। খেজুরি থেকে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার জন্য নিজে রাজ্য পার্টি অফিসে গিয়ে বায়োডাটা জমা করেছিলেন। এখন তাঁ঩কেই নির্দল প্রার্থী হিসেবে সামনে রেখে লড়াই করতে চাইছেন বিক্ষুব্ধরা। সত্যজিৎবাবু বলেন, আমি একজন বিজেপি কর্মী। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে দেশের সংবিধান রচনা এবং শিক্ষা সাহিত্য চর্চায় এই খেজুরির একটা আলাদা পরিচিতি আছে। সেই জায়গায় বিজেপি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অনেকেই নানা মন্তব্য করছেন। আমাকে অনেকেই প্রার্থী হিসাবে চাইছেন। আমার নিজেরও কোনো অসুবিধা নেই।
এছাড়া, খেজুরির বড় কসাফলিয়া গ্রামের আর এক সুব্রত পাইক এবার প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তপন মাইতি কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি থাকাকালীন তিনি বিজেপির তফসিলি মোর্চার জেলা সহ সভাপতি ছিলেন। ২০১৯-’২১ সালে বিজেপির কিষাণ মোর্চার অফিসিয়াল সেক্রেটারি ছিলেন। ২০২৩ সালে দল ছাড়েন। সিপিএম থেকে আসা সুব্রত পাইককে প্রার্থী করায় প্রাক্তন ওই বিজেপি প্রার্থী এবার নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে হেঁড়িয়ায় বিদ্রোহীরা জমায়েতের ডাক দিয়েছেন। তারআগে বুধবার রাতে বিদ্রোহী নেতাদের মুখোমুখি হন ‘দাদা’। দলের মনোনীত প্রার্থীকে মেনে নেওয়ার কথা বলেন। তবে, বিদ্রোহীরা চূড়ান্ত কথা দেননি। তাই শেষমেশ কী হয় সেটাই দেখার। খেজুরির বিজেপি প্রার্থী সুব্রত পাইক বলেন, ক্ষোভ, বিক্ষোভ সাময়িক থাকলেও সেসব অনেকটাই মিটেছে। বুধবার কলাগেছিয়া, বারাতলা, গড়বাড়ি সহ বেশ কয়েক জায়গায় প্রচার সেরেছি। ভালো সাড়া পেয়েছি। খেজুরি আমাদের জেতা আসন। লোকসভায় বিপুল মার্জিন ছিল। তাই জয় নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। 
       খেজুরিতে বিজেপির কার্যালয়। নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ