


সঞ্জিত সেনগুপ্ত ও উজ্জ্বল রায়, শিলিগুড়ি ওধূপগুড়ি: পদ্মবনে অশান্তি। আর এরই জেরে ভোটের লড়াইয়ে নামার আগেই চরম অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে দলের টিকিট না পেয়ে সরাসরি নির্দল হয়ে লড়াইয়ের হুমকি বিজেপির প্রাক্তন জেলা সাধারণ সম্পাদক অলোক সেনের। গোঁজ হয়ে এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা দলের বিদায়ী বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ তাঁর।
অন্যদিকে, ‘বহিরাগত’ প্রার্থীকে মানব না, এই দাবিতে পদ্মকর্মীদের পোস্টার ঘিরে বিড়ম্বনায় গেরুয়া শিবির। ধূপগুড়িতে এখনো প্রার্থী দিতে পারেনি বিজেপি। আজ, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার কথা। তার আগে বুধবার ধূপগুড়ি শহরের একাধিক এলাকায় সাঁটা এই পোস্টার ঘিরে বিপাকে জেলার পদ্ম নেতৃত্ব। যদিও তাদের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা নন, এই পোস্টারের পিছনে হাত রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। বিজেপির ধূপগুড়ি টাউন মণ্ডলের সভাপতি পাপাই বসাকের তোপ, ধূপগুড়িতে আমাদের জয় ঠেকানো যাবে না বুঝেই চক্রান্ত করতে বিজেপি কর্মীদের নাম করে এসব পোস্টার দিচ্ছে তৃণমূল। গেরুয়া শিবিরের এমন অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন ধূপগুড়ির জোড়াফুল প্রার্থী তথা তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়। তাঁর মন্তব্য, বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে, সেটা তাদের বিষয়। নিশ্চয়ই ওদের ভিতরে কোনো গণ্ডগোল আছে। যার কারণে ওদের লোকেরাই এসব পোস্টার দিচ্ছে। এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপি যাঁকেই প্রার্থী করুক না কেন, ধূপগুড়িতে আমরাই জিতব।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে এবার বিজেপির প্রার্থী বদলের দাবিতে অনেক আগে থেকেই দলের অন্দরে চাপ বাড়াচ্ছিলেন একাংশের কর্মী। কিন্তু শেষমেশ তা না হওয়ায় চাপা ক্ষোভ এখন সামনে আসতে শুরু করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা অলোক সেন বলেন, ২০১৬ সাল থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সেবার দলের তৎকালীন দার্জিলিংয়ের সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া বুঝিয়ে আমাকে শান্ত করেন। একুশেও আমাকে প্রার্থী করা হয়নি। ভোটের কিছুদিন আগে তৃণমূল থেকে আসা শিখা চট্টোপাধ্যায়কে টিকিট দেয় বিজেপি। দলের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে নির্দল হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু দলের দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের কথায় শেষপর্যন্ত সরে আসি। তাঁরা কথা দিয়েছিলেন, ছাব্বিশে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে আমাকেই দলের প্রার্থী করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হল না। ফলে এবার আর কারো কথা শুনব না। নির্দল হয়ে শিখা চট্টোপাধ্যায়কে হারাবই।
এনিয়ে অবশ্য শিখার বক্তব্য, কাকে প্রার্থী করা হবে, তা দল ঠিক করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখ ও বিজেপির প্রতীক দেখে এবার ভোট হবে বাংলায়। তবু এ ধরনের ঘটনা নিশ্চয়ই দলের রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব। • নিজস্ব চিত্র।