নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পেশায় মিস্ত্রি হলেও সাইবার প্রতারণায় সক্রিয়! সূত্র মারফত খবর পেয়ে প্রথমে কিছুটা অবাকই হয়েছিল পুলিশ। খোঁজ করায় কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বের হল কেউটে। জানা গেল, ‘মিস্ত্রি’ সাংকেতিক শব্দ। মিস্ত্রি প্রশিক্ষণের নাম করেই শিল্পাঞ্চলের নাবালকদের জামতাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দেওয়া হয় ‘প্রশিক্ষণ’। ‘মিস্ত্রি’দের হাত পাকা হলে রোজগার বাড়ে। সাইবার প্রতারণার পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় মোবাইল পাচারেও এই চক্র জড়িত। সাইবার প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল তারা বাংলাদেশে পাচার করে দেয়। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এপর্যন্ত এই ‘মিস্ত্রি গ্যাং’য়ের সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, জামতাড়ার মতো শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি এলাকাও সাইবার প্রতারণা ও মোবাইল চুরিতে কুখ্যাত হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কুলটি থানার চিনাকুড়ি, নিয়ামতপুরের মুচিপাড়া, জামুড়িয়ায় নিঘার নুনিয়াবস্তি। অভিযোগ, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সভাতেও এই চোরেরা হাতসাফাই করেছিল। কয়েকশো মোবাইল নিমেষে গায়েব করে দেয়।
কীভাবে চলে এই চক্র? এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ৮-১৪বছরের নাবালকদের টার্গেট করা হয়। তাদের প্রথমে তিনহাজার টাকা ও খাওয়াদাওয়ার টোপ দিয়ে জামতাড়া নিয়ে যাওয়া হয়। ‘মিস্ত্রি’ বলেই ডাকা হয় তাদের। প্রশিক্ষণ শেষে ওই কিশোরদের মোবাইল চুরিতে নামানো হয়। তখন মাসে ১০হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। পকেটমারির পাশাপাশি মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে সাইবার প্রতারণার ফন্দি শিখে গেলেই কেল্লা ফতে। তখন মাসে ৫০হাজার টাকাও তারা রোজগার করে। জানা গিয়েছে, অনেকে পকেটমার এতটাই দক্ষ হয়ে ওঠে যে, তাদের কাছে কার্ড সোয়াইপ করার যন্ত্রও দিয়ে দেয় চক্রের মাথারা। যাতে পকেটমারি করে পাওয়া ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে টাকা লুট করতে পারে।
পুলিশ আরো জানতে পেরেছে, যে সমস্ত মোবাইল সাইবার প্রতারণায় ব্যবহার হয়ে যায়, সেগুলি মালদহের কালিয়াচকে পাচার করা হয়। সেখান থেকে ওই মোবাইল বাংলাদেশে পাচার হয়ে যায়। কারণ, ওই মোবাইল সঙ্গে রাখা এই চক্রের লোকজনের পক্ষে বিপজ্জনক। ওই মোবাইলের সূত্র ধরেই পুলিশ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু, পাচার করে দিলে পুরো চক্রটিই তদন্তকারীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। ‘মিস্ত্রি’দের প্রশিক্ষণের সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। এতেই প্রাথমিকভাবে সাফল্য মিলেছে।