নয়াদিল্লি: দিল্লিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা নিয়ে ৭০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভিজিলেন্স দপ্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২ জুন দায়ের হয়েছে এফআইআর। অথচ কোটি কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনা সংক্রান্ত ফাইলই সরকারি দপ্তর থেকে উধাও! তদন্তের দায়িত্বে থাকা দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি) দিল্লির একটি আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। এসিবি জানিয়েছে, ওইসব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট’ করা হয়েছে। এমনই দাবি করে দিল্লির বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধী দল আপ। তাদের তোপ, কার নির্দেশে নথি গায়েব হয়ে গেল? বিজেপি সরকার কি এত বড়ো দুর্নীতির মামলা ধামাচাপা দিতে প্রমাণ নষ্ট করছে?
সরকারি হাসপাতালের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামগুলি কিনেছিল দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ডিরেক্টর জেনারেল অব হেল্থ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস) ও সেন্ট্রাল প্রোকিয়রমেন্ট এজেন্সি (সিজিএ)। দিল্লিতে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা ও সরবরাহের নোটাল সংস্থা হল সিজিএ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এক্স-রে, সি-আর্ম মেশিন সহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা সংক্রান্ত দরপত্র, সেইসব দরপত্র তৈরি ও তার শর্ত নির্ধারণকারী আধিকারিকদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল উধাও হয়ে যাওয়া ফাইলগুলিতে। দরপত্রের টেকনিকাল ও আর্থিক মূল্যায়নের প্রক্রিয়ায় যুক্ত আধিকারিকদের নামও ছিল সেখানে। এই ইস্যুতে দিল্লির আদালতে এসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ ফাইলগুলি নষ্ট করেছে। সংঘটিত অপরাধের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ‘লোপাট’ করেছে তারা। এই মেডিকেল দুর্নীতি নিয়ে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত হিসাবে নাম উঠে এসেছে ডিজিএইচএস-এর প্রাক্তন প্রধান ডাঃ বৎসলা আগরওয়াল, সিপিএ-এর প্রাক্তন ডেপুটি কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস নীরজ চোপড়া এবং প্রাক্তন হেড অব অফিস ডাঃ বিনোদ কুমার রাঙ্গার। গত সোমবার রাঙ্গার জামিনের আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছে। তবে মঙ্গলবার অসুস্থতাজনিত কারণে আগরওয়ালকে চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন বিশেষ বিচারক বিদ্যা প্রকাশ।