৫ মিনিটের ভিডিয়ো বার্তায় পর্তুগালের জার্সিকে বিদায়, বিতর্ক সঙ্গী করেই অবসর সিআরসেভেনের
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমনাথ বসু,  কলকাতা: ফুটবল কেরিয়ারের গোড়া থেকেই তাঁর রিংটোন, ‘আয়াম দ্য বেস্ট।’ বছরের পর বছর এমন ঔদ্ধত্য মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পারফরম্যান্সের গ্রাফ নামছিল। তাই তো কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কাহিনির শিকার হতে হল তাঁকে। টিম হোটেল ছাড়ার বিতর্ককে সঙ্গী করে নীরবেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। এই বিদায় কি প্রাপ্য ছিল? চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লায়োনেল মেসির মতো তাঁর শেষ ম্যাচও রাজসিক হতে পারত। কিন্তু বিতর্ক আর সিআরসেভেন যে একটি মুদ্রার দুই পিঠ। কোচ জর্জ জেসুসের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে নেশনস লিগ চলাকালীন শিবির ছাড়েন তিনি। ভেবেছিলেন, জামাই আদর করে তাঁকে ফিরিয়ে আনবেন কোচ-কর্তারা। কিন্তু না। তা হওয়ার কথা নয়। কারণ, আমেরিকা বিশ্বকাপের পর সেলিম-জাভেদের ঢংয়ে রোনাল্ডোর বিদায়ের চিত্রনাট্য লেখেন কোচ জেসুস ও পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট পেড্রো পোয়েসা। তাই ‘ভগবান বৃদ্ধ হয়েছেন’ বলে অবসর ছিল অনিবার্য। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় ৩-৫৯ মিনিটে এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। 

Advertisement

অফ হোয়াইট টি শার্টের দু’টি বোতামই বন্ধ। মাথার পিছনে সাদা আলো জ্বলছে। সোফায় কুশনের সামনে বসে হাতে রাখা অবসরপত্র পড়তে ব্যস্ত রোনাল্ডো। পাঁচ মিনিটের ভিডিয়ো শুধুমাত্র চলমান ছবি নয়। পর্তুগালের প্রতি ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা, সমর্থকদের আবেগ, সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান, সহ-ফুটবলার ও কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতার কোলাজও বটে। 
২৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল পেয়েছেন ১৪৮টি। লক্ষ্যভেদের নিরিখে তিনিই মাউন্ট এভারেস্ট। ট্রফি ক্যাবিনেটে ইউরো (২০১৬) এবং দু’টি উয়েফা নেশনস লিগ (২০১৯, ২০২৫)। ছ’টি বিশ্বকাপে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। সেই ২০০৩ সালে পর্তুগালের মেরুন জার্সি গায়ে চাপানো। তারপর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠা। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়েও জাতীয় দলের প্রতি কর্তব্যে অবিচল থেকে ফুটবলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ফিগো, ডেকো, রুই কস্তাদের সঙ্গে পথচলা শুরু। তারপর পেপে, রিকার্ডো কুরেসমা, হোয়াও মোতিনহো হয়ে তা বেঁকেছে ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, বার্নার্ডো সিলভাদের দিকে। কিন্তু গত চার বছরে ক্রমশ সহ-ফুটবলারদের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠেছেন। কাতার বিশ্বকাপেই বিদায়ের পদধ্বনি শুনতে পেয়েছিলেন রোনাল্ডো। দোহার লুসেইল স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখেননি কোচ স্যান্টোস। গনসালো র‌্যামোসকে তাঁর বিকল্প হিসাবে দেখে ক্ষোভ চেপে রাখতে ব্যর্থ হন মহাতারকা। তার জেরেই বিশ্বকাপের পরে কোচের পদ থেকে সরে যান ফার্নান্দো স্যান্টোস। কাছের মানুষ রবার্তো মার্তিনেজ নেন পর্তুগালের দায়িত্ব, যা ভালোভাবে নেননি বাকিরা। তবে আমেরিকা বিশ্বকাপের পর পদত্যাগ করেন মার্তিনেজ। নতুন কোচ করে আনা হয় জর্জ জেসুসকে। শুরু হয় নতুন সমীকরণ। 
নেশনস লিগে রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। ফেডারেশনের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেন কোচ। তা মানতে পারেননি সিআরসেভেন। রাগে জাতীয় শিবির ছাড়েন। তোলেন কোচের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ। কিন্তু জেসুস চুপ থাকেননি। তিনিও পালটা তোপ দাগেন। তখনই দেওয়াল লিখন পড়তে পেরেছিলেন অভিজ্ঞ রোনাল্ডো। বৃহস্পতিবার অবসর নেওয়ার পর তিনিও হয়তো ভাবছেন, ‘বেস্টকেও রেস্ট নিতে হয়।’