মোহন বাগান- ৩ : ওড়িশা এফসি- ২
(ড্রাজিচ-২, আরউইন) (ঈদ, এভার্টন)
সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: আরউইনের শট জালে জড়াতেই গ্যালারিতে জ্বলে উঠল মোবাইলের টর্চ। আগাম দীপাবলীর রোশনাইয়ে তখন আলোকিত যুবভারতী। হবে না-ই বা কেন! আইএসএলে টানা চারটি জয়ে পয়েন্ট তালিকায় ফের শীর্ষে উঠে এল মোহন বাগান (৫ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট)। বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে ওড়িশা এফসিকে ৩-২ গোলে হারাল পানোস ব্রিগেড। জোড়া লক্ষ্যভেদ ডেজান ড্রাজিচের। এছাড়া জাল কাঁপান আরউইন। ওড়িশার দুই গোলদাতা ইদ ও এভার্টন। তবে জিতলেও ফুটবলারদের সুযোগ নষ্টের প্রবণতা অবশ্যই চিন্তায় রাখবে বাগান কোচকে।
বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে হারিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষে উঠেছিল নর্থ ইস্ট। তাই পাহাড়ি দলকে পিছনে ফেলার জন্য ওড়িশার বিরুদ্ধে জিততেই হত মোহন বাগানকে। ১৭ সেকেন্ডে ড্রাজিচের থালায় সাজিয়ে দেওয়া বল ধরে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ আরউইন। এদিন জোড়া পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় মোহন বাগান। ২৪ মিনিটে মনবীরের শট বক্সের মধ্যে সৌরভ ভানওয়ালার হাতে লাগে। ১১ মিনিট বাদে ফের পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন রেফারি। ৪২ মিনিটে জেলকোভিচের থ্রু পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বাইরে মারেন মনবীর। পরের মিনিটেই লিস্টনের শট পোস্টে লাগে। তবে প্রথমার্ধের যাবতীয় ভুল শুধরে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দলকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন ড্রাজিচ। ৪৭ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার পাস ধরে লক্ষ্যভেদ এই সার্বিয়ানের (১-০)। তবে লিড দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ওড়িশাকে সমতায় ফেরান মাহমুদ ইদ (১-১)।
লিড হাতছাড়া হতেই লিস্টনের জায়গায় ছাংতেকে নামান পানোস। মিজো উইঙ্গার নামতেই ডানপ্রান্ত সচল হয় মোহন বাগানের। ৭৪ মিনিটে তাঁর সেন্টার থেকেই ফের দলকে এগিয়ে দেন ড্রাজিচ (২-১)। তবে ৭৮ মিনিটে নিজেদের ভুলে গোল হজম করে মোহন বাগান। এক্ষেত্রে বক্সের মধ্যে মেহতাবের ক্লিয়ারেন্স অভিষেকের পিঠে লাগে। ফিরতি বল ধরে জালে জড়ান এভার্টন (২-২)। মরিয়া পানোস এবার নামান ম্যাকলারেনকে। ৮৭ মিনিটে যাবতীয় মিসের প্রায়শ্চিত্ত করে দলকে জয়সূচক গোলটি করেন আরউইন। বক্সে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ ওড়িশার শুভম। এবার আর জাল কাঁপাতে ভুল হয়নি স্কট স্ট্রাইকারের (৩-২)। উল্লেখ্য, এদিন ম্যাচের আগে প্রয়াত স্প্যানিশ ফুটবলার মিগুয়েলের স্মৃতিতে নীরবতা পালন করা হয়।
মোহন বাগান: বিশাল, অভিষেক, মেহতাব, আলবার্তো, শুভাশিস, জেলকোভিচ (টাংরি), অনিরুদ্ধ, মনবীর (ম্যাকলারেন), ড্রাজিচ, লিস্টন (ছাংতে) ও আরউইন।



