Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে অভিষেক পবিত্রকে জেতাতে জনস্রোত, ৪ মে সবুজ আবির ওড়ানোর অঙ্গীকার কর্মীদের

ভিড়ে ঠাসা নির্বাচনি সভা থেকে নন্দীগ্রামকে পবিত্রময় করার আহ্বান জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

নন্দীগ্রামে অভিষেক পবিত্রকে জেতাতে জনস্রোত, ৪ মে সবুজ আবির ওড়ানোর অঙ্গীকার কর্মীদের
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: ভিড়ে ঠাসা নির্বাচনি সভা থেকে নন্দীগ্রামকে পবিত্রময় করার আহ্বান জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার নন্দীগ্রাম-১ব্লকের পল্লি উৎসব কমিটির ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনি সভা ছিল। পবিত্র করের সমর্থনে অভিষেকের ওই সভায় ব্যাপক ভিড় হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুপুর ২টোয় আসার কথা থাকলেও তিনি পৌঁছান বিকাল সাড়ে ৩টেয়। সেনাপতির বক্তব্য শোনার জন্য ধৈর্য দিয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা সভাস্থলে বসেছিলেন। মঞ্চের চারিদিকে ভিড় দেখে অভিষেক ডি-জোনে কর্মীদের বসানোর জন্য নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দেন। তাতেই উদ্বেল হয়ে পড়েন তৃণমূল কর্মীরা। গত পাঁচ বছরে নন্দীগ্রামে বিজেপির বঞ্চনা নিয়ে সরব হন অভিষেক। নন্দীগ্রামের মাটিতে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভোটের ডাক দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেনাপতি।  

Advertisement

এদিনের সভায় অভিষেক করেন, ‘নন্দীগ্রামের সঙ্গে হলদিয়ার সংযোগকারী সেতুর জন্য রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল। এখানে আমাদের প্রার্থী পবিত্র কর জয়ী হলে রেজাল্ট ঘোষণার ৫০দিনের মধ্যে হলদি নদীর উপর ব্রিজের শিলান্যাস হবে। আমি আপনাদের থেকে ৫০দিন চেয়ে নিচ্ছি।’ অভিষেক ভিড়েঠাসা সভায় নন্দীগ্রামবাসীর বহুপ্রতীক্ষিত ব্রিজের কথা ঘোষণা করতেই গোটা সভাস্থলজুড়ে হর্ষধ্বনি ওঠে। তিনি বলেন, ডায়মন্ডহারবার ছাড়া বাংলায় একমাত্র নন্দীগ্রামে আমি নিজের উদ্যোগে সেবাশ্রয় ক্যাম্প চালু করেছি। নন্দীগ্রাম-১ ও ২ব্লকে আলাদা দু’টি মডেল ক্যাম্প হয়েছিল। কেউ কেউ মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করে ক্যাম্পে না হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাদের বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে প্রায় ৫০হাজার মানুষ নন্দীগ্রামের জোড়া সেবাশ্রয় ক্যাম্পে হাজির হয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েছে। দু’জন কিশোরীকে দিল্লি এইমসে পাঠিয়েছিলাম। তারা এখন অনেকটাই সুস্থ।
অভিষেক বলেন, গত পাঁচ বছর এখানে বিজেপির বিধায়ক আছেন। তাঁর দল বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে। তবুও গত পাঁচ বছরে কেন্দ্র সরকার এই নন্দীগ্রামে কিছু করেনি। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এখানে গত দু’বছরে ১২হাজার গরিব মানুষকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে। তাতে মোদি সরকারের ১০পয়সা অবদান নেই। নন্দীগ্রাম-১ ও ২ব্লকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৯৭হাজার মহিলা পাচ্ছেন। কৃষকবন্ধু পাচ্ছেন ১লক্ষ ১৫৪০জন। এছাড়া, ২০হাজার যুবক-যুবতী যুবসাথী স্কিমের সুবিধা পাচ্ছেন। পথশ্রী-২ ও ৩স্কিমে প্রায় ৫০কোটি টাকা খরচ হয়েছে নন্দীগ্রামে। 
তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সম্পাদক বলেন, আমরা রাজনীতি করছি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অন্ন বস্ত্র, বাসস্থান নিয়ে। সামাজিক মাধ্যমে দেখতে পাই, মানুষ বলছে, আমাদের রাস্তা ঠিক নেই। আর বিজেপি বলছে, ধর্ম রক্ষা করতে হবে। ধর্ম রক্ষা মানে কী? মানুষ নিজের ধর্ম পালন করতে পারে না? বিজেপি ধর্মের নামে আপনাদের বিভ্রান্ত করছেন। এরা সবচেয়ে বড় ধাপ্পাবাজ। তিনি বলেন, এই মাটি বশ্যতা বিরোধী মাটি। এখানকার মানুষ ইংরেজদের কাছে মাথানত করেনি। অথচ, দু’দিন আগে দেখলাম, যোগী আদিত্যনাথের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছেন। নিজের বিধানসভার সিট বাঁচানোর জন্য যোগীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে হচ্ছে। এরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙে। আর, যোগী আদিত্যনাথের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে।
এদিনের সভায় আসা গোকুলনগরের সনাতন বেরা, হরিপুরের মিলন দিণ্ডা, টেঙ্গুয়ার মানিক জানা বলেন, ২০২১এর ভুল আর হবে না। নন্দীগ্রামে যা উন্নয়ন হয়েছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই হয়েছে। আগামী দিনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা তাঁকে উপহার দিতে এখানে আরও অনেক কাজ হবে। তাই আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে চাই।

সম্পর্কিত সংবাদ