নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, মানবাজার: শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবারে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার শিব মন্দিরগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে। রবিবার সকাল থেকেই থেকেই পুণ্যার্থীরা শিবের মাথায় ঢালার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে জল আনতে শুরু করেন। সোমবার দিনভর জল ঢালার পর্ব চলে।
বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর শিব মন্দিরে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। সদর থানার পুলিসের হিসেব অনুযায়ী এদিন ওই শিব মন্দিরে প্রায় ৫০ হাজার পুণ্যার্থী জল ঢেলেছেন।
তাঁদের বেশিরভাগই শুশুনিয়া পাহাড়ের ধারা(ঝর্ণা) থেকে বাঁকে করে জল আনেন। তাঁদের যাতায়াতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তারজন্য প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
পুণ্যার্থীরা জানিয়েছেন, সুষ্ঠুভাবে তাঁরা শিবের মাথায় জল ঢেলেছেন। তবে রবিবার সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে সমস্যা হয়। ঘনঘন বজ্রপাত হওয়ায় মাঝেমধ্যেই আশ্রয় খুঁজে দাঁড়াতে হয়েছিল। অনেককে আবার বৃষ্টি মাথায় করেই মন্দিরের উদ্দেশে একমনে হেঁটে যেতে দেখা যায়। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় পাথর বের হয়ে পড়ে। ওই পথে হাঁটতে গিয়ে অনেকের পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়।
মানবাজারের শিব মন্দিরগুলিতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এদিন পুঞ্চার বুধপুর ও ঝগড়া শিবমন্দিরে অসংখ্য মানুষের সমাগম হয়। ভোর থেকেই শিবের মাথায় জল ঢালতে দীর্ঘ লাইন পড়ে।
ভগড়া শিব মন্দিরে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য নরনারায়ণ সেবার ব্যবস্থা করা হয়। বুধপুর বাবা বুদ্ধেশ্বরের মন্দিরে ভিতরে প্রবেশ না করে বাইরে থেকে জল ঢালার ব্যবস্থা করে পুজো কমিটি। ভিড় সামাল দিতে দু’টি মন্দিরে পুঞ্চা ও মানবাজার থানার পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন ছিল।