বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে রাজ্যের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র তারাপীঠ সেজে উঠেছে। ফি বছর এই বিশেষ দিনে তারাপীঠে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না বলে মন্দির কমিটি জানিয়েছে।
বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে রাজ্যের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র তারাপীঠ সেজে উঠেছে। ফি বছর এই বিশেষ দিনে তারাপীঠে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না বলে মন্দির কমিটি জানিয়েছে।
মা তারার পুজো দিয়ে বছর শুরু করতে প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে তারাপীঠে ভক্তদের ঢল নামে। দূরদূরান্ত থেকে জেলার ব্যবসায়ীরা হালখাতা নিয়ে পুজো দিতে হাজির হন। গণেশ মূর্তি ও নতুন হালখাতা দেবীর চরণে স্পর্শ করিয়ে পুজো দেন তাঁরা। পয়লা বৈশাখ শনি বা রবিবার হলে, কোনও তিথি পড়লে ব্যাপক ভিড় হয়। এবার পয়লা বৈশাখ মঙ্গলবার হলেও ভক্তসমাগম কম হচ্ছে না বলে সেবাইতরা জানান।
মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ভোরে দেবীর স্নানের পর রাজবেশে সাজিয়ে পুজো ও মঙ্গলারতি করা হয়। এরপরই ভক্তদের জন্য গর্ভগৃহ খুলে দেওয়া হয়। এরাজ্যের পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকেও ব্যবসায়ীরা আসছেন। তার উপর সবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তাই ছেলেমেয়েদের ভালো ফলের কামনায় অভিভাবকরাও ভিড় জমাতে চলেছেন।
পয়লা বৈশাখে দেবীকে দু’বার ভোগ নিবেদন করা হয়। আতপ চালের অন্ন, পোলাও, পঞ্চব্যঞ্জন, মাছ, বলির মাংস, মিষ্টি, ফল ও কারণ দিয়ে দেবীকে মধ্যাহ্নে ভোগ নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যায় দেবীকে বেনারসিতে সজ্জিত করা হয়। সন্ধ্যারতি ও পুজোর পর রাতে খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয়। ওইদিন ভোগে লাড্ডু অবশ্যই থাকে। সমস্ত ভক্তরা যাতে দেবীর দর্শন পান, সেজন্য অনেক রাত পর্যন্ত মন্দিরের গর্ভগৃহ খোলা থাকবে।
তারাময়বাবু বলেন, নববর্ষে জেলার নলহাটি, মল্লারপুর, রামপুরহাট, সাঁইথিয়ার ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশ ভিড় জমান। কারও যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। নববর্ষ উপলক্ষ্যে মন্দির সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
তারাপীঠের গবেষক প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজা রামজীবন চৌধুরী তারামায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭০১সালে সাধক প্রথম আনন্দনাথ তৎকালীন পাণ্ডা কিশোর, হরষিত, রামশরণের সহযোগিতায় অন্য উৎসবের সঙ্গে পয়লা বৈশাখ উদযাপন চালু করেছিলেন। তখন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখানে পুজো দিতে ভিড় জমাতেন। এখন পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ীরাও নববর্ষে তারাপীঠে পুজো দেন।
তারাপীঠ লজ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, এবার হোটেল বুকিং ভালোই হয়েছে। পুজো দিতে আসার জন্য প্রচুর ভক্ত হোটেল বুকিং করেছেন। বীরভূমে এসময় প্রচণ্ড গরম থাকে। তাই সবাই এসি ঘর চাইছেন।
মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, পয়লা বৈশাখ একটা বিশেষ দিন। ওই দিনে প্রচুর ভক্ত আসেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্দিরের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াও রাজ্য পুলিসের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আমরা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও নজরদারির ব্যবস্থা করেছি।