Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নববর্ষের সকালে নবদ্বীপের মন্দিরে পুজো দেওয়ার ভিড়

সারাবছর ব্যবসা যাতে ভালো যায়, সেজন্য বাংলা নববর্ষে ব্যবসায়ীরা লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করেন। নদীয়া জেলার বিভিন্ন মঠ-মন্দিরেও ছোটো-বড়ো ব্যবসায়ী নতুন বছরের খাতা ও লক্ষ্মী-গণেশ মূর্তি নিয়ে পুজো দিতে ভিড় করেন।

নববর্ষের সকালে নবদ্বীপের মন্দিরে পুজো দেওয়ার ভিড়
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: সারাবছর ব্যবসা যাতে ভালো যায়, সেজন্য বাংলা নববর্ষে ব্যবসায়ীরা লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করেন। নদীয়া জেলার বিভিন্ন মঠ-মন্দিরেও ছোটো-বড়ো ব্যবসায়ী নতুন বছরের খাতা ও লক্ষ্মী-গণেশ মূর্তি নিয়ে পুজো দিতে ভিড় করেন। প্রতিবছরই বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন নবদ্বীপের অধিষ্ঠাত্রী পোড়ামা, ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে পুজো দিতে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। ভক্তদের লম্বা লাইন পড়ে গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দির, যোগনাথ শিব, বুড়ো শিব মন্দিরেও। শুধু নবদ্বীপ নয়, কৃষ্ণনগরের আনন্দময়ী ও সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, রানাঘাটের সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাসের মন্দিরে বছরের প্রথম দিনে বহু মানুষ পুজো দেন।

Advertisement

নবদ্বীপের পবিত্র মাটিতে জন্মেছেন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। তেমনি এই শহরে জন্মেছেন তন্ত্রসাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশও। শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণবদের অসংখ্য মঠ-মন্দির এখানে রয়েছে। নবদ্বীপ শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে পোড়ামা মন্দির। নবদ্বীপের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী পয়লা বৈশাখের ভোরে গঙ্গাস্নান সেরে নতুন খাতা নিয়ে পোড়ামা ও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে উপস্থিত হন। সেখানে লক্ষ্মী-গণেশ পুজো করিয়ে নেন। আবার কেউ কেউ বছরের এই দিনে পরিবার নিয়ে মায়াপুরের ইসকন মন্দির সহ বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরতে যান। বাংলা নববর্ষের সকালে দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্ত গঙ্গাস্নানের জন্য চৈতন্যভূমির বিভিন্ন ঘাটে ভিড় করেন।
বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সভাপতি তথা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরের অন্যতম সেবাইত সুদিন গোস্বামী বলেন, ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর পুজো দিতে নববর্ষে নবদ্বীপের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই দিনে মহাপ্রভুর চরণস্পর্শ করিয়ে নতুন খাতা খুললে সারাবছর ব্যবসা ভালো যাবে।
পোড়ামা মন্দিরের সেবায়েত কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, পোড়ামা নবদ্বীপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বলে পরিচিত। নবদ্বীপের অনেকেই যে কোনো পুজোপার্বণের আগে এই দেবীর কাছে পুজো দেন। পূর্ব বর্ধমান থেকেও বহু ব্যবসায়ী বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন এখানে পুজো দিতে আসেন।
নবদ্বীপ পুরাতত্ত্ব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরঞ্জন দেব বলেন, গণেশ বিঘ্ন নাশ করেন। তাই ব্যবসায়ীরা গণেশ বন্দনা করে ব্যবসা শুরু করেন। নতুন বছরে নতুন খাতায় সিঁদুরের ফোঁটা, ফুল দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকা হয়। স্বস্তিকবচন মন্ত্র পাঠ করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ