Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চেনা ছন্দে অগ্নিকন্যা শহরের প্রাণকেন্দ্রে উপচে পড়ল ভিড়

রাত ৮টা বেজে ১০ মিনিট। লর্ড সিনহা মোড়ের এক আবাসন থেকে জনসংযোগ সেরে গাড়িতে উঠলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চেনা ছন্দে অগ্নিকন্যা শহরের প্রাণকেন্দ্রে উপচে পড়ল ভিড়
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: রাত ৮টা বেজে ১০ মিনিট। লর্ড সিনহা মোড়ের এক আবাসন থেকে জনসংযোগ সেরে গাড়িতে উঠলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুটা এগতে না এগতেই থমকাতে হল তাঁকে। কারণ থিকথিকে ভিড়। লর্ড সিনহা রোড থেকে এক্সাইডমুখী রাস্তা কার্যত স্তব্ধ। না, দলীয় কর্মীদের সংগঠিত জমায়েত নয়। সেই ভিড়ের মধ্যে কেউ অফিসের কর্মী, কেউ শো-রুমে কর্মরত। খুদে পড়ুয়ার হাত ধরে ভিড়ে মিশে রয়েছেন মা। জননেত্রীকে দেখতে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে জনতা। গাড়ি থেকে নেমে নিজস্ব ঢঙে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে করতে এগিয়ে গেলেন মমতা। সহস্র কণ্ঠে আওয়াজ উঠল, ‘জয় বাংলা’। স্লোগান উঠল, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। এই ভিড় ‘অগ্নিকন্যা’র খুব চেনা। দশকের পর দশক ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা নিজস্ব রাজনৈতিক পুঁজি! 

Advertisement

সোমবার বিকালে শেক্সপিয়র সরণি থানার সামনে ছোট্ট সভামঞ্চে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখান থেকে বেরিয়ে ওই অঞ্চলের পাঁচটি অভিজাত আবাসনে যান ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী। বাসিন্দাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আড্ডা দেন। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সি কে ধানুকা, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুস্মিতা ভট্টাচার্য প্রমুখ। ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত এই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবাঙালি নাগরিকের আধিক্য রয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চল তৃণমূলকে ‘স্বস্তি’ দেয়নি। আবাসনে আলাপচারিতায় সেই আক্ষেপের কথাও শুনিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘আপনারা লোকসভায় ওদের ভোট দিয়েছিলেন। কে কাকে ভোট দেবে, সেটা তার নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আপনারা বাংলায় থাকেন। এখানে ব্যবসা করেন। আপনাদের কোনো সমস্যা হতে দিইনি। তাই বাংলার ভোটে আপনাদের সহযোগিতা চাই।’ শেক্সপিয়ার সরণির কালীপুজো থেকে বড়োদিনের উৎসব, যে কোনো অনুষ্ঠানে এই অঞ্চলে আসেনই মমতা। সেই কথাও বাসিন্দাদের স্মরণ করিয়েছেন নেত্রী। সবরকমভাবে বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’, ‘অতিথি’ নন। থিয়েটার রোডের একটি আবাসনের বাসিন্দা রোহিত গোয়েলের কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন। আমাদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন। আমরা আপ্লুত।’ 
এদিন সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ছ’টা নাগাদ শেক্সপিয়র সরণির সভাস্থলে আসেন তিনি। সভা শেষ করে পাঁচটি আবাসন ঘুরে কর্মসূচি শেষ করেন। তারপর রাস্তায় বেরিয়ে আম জনতার ভিড়ে মিশে যান তিনি। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ