নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সৌজন্যে সোনাম ওয়াংচুক। চলতি বছরের নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন বাস্তবের ‘র্যাঞ্চো’। আর প্রধানত সোনামের সৌজন্যেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অবস্থান বিক্ষোভে বাড়ছে সাধারণ মানুষের সহমর্মিতা। দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বাড়ছে ভিড়। প্রতিদিন শ’য়ে শ’য়ে মানুষ যন্তর মন্তরে আসছেন শুধুমাত্র সোনাম ওয়াংচুককে দেখার জন্য। যদিও নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে অনশন মঞ্চের কিছুটা দূরে তৈরি করা হয়েছে ব্যারিকেড। সেখান থেকেই আওয়াজ উঠছে ‘র্যাঞ্চো’, ‘র্যাঞ্চো’। হাজির হচ্ছেন বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের নেতা-নেত্রীরাও। এর মধ্যেই শুক্রবার সোনাম জানান, ২০ জুলাই পর্যন্ত তাঁর অনশন জারি থাকবে। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে পার্লামেন্ট অভিযানের জন্য আমি যেনতেনপ্রকারে ২০ জুলাই অবধি বেঁচে থাকবই। যদি আমাদের অভিযান সফল না হয়, তাহলে আমি ভূত হয়ে ফিরে আসব।’
যন্তর মন্তরের ভিড় নিয়ে দৃশ্যতই প্রবল চাপে দিল্লির পুলিশ-প্রশাসন। এমনিতেই শান্তিপূর্ণ অবস্থানে দিল্লি পুলিশের বেনজির নিরাপত্তা বলয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিজেপির আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সমর্থনে আরও অস্বস্তিতে মোদি সরকার। কেন্দ্রের এহেন অস্বস্তি শুক্রবার দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সোনাম ওয়াংচুকের সমর্থনে টুইট করেছিলেন কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল। শুক্রবার অনশন মঞ্চে গিয়ে সোনামের সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। পাশাপাশি, একটি ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। আর মোদি সরকারের রক্তচাপ বাড়িয়েছে ওই ছবিটি। তাতে দেখা যাচ্ছে, ইন্দিরা গান্ধীর সামনে আধশোয়া অবস্থায় রয়েছেন এক প্রৌঢ়। তাঁর হাতে একটি গ্লাস। তিনি কোনো তরল পান করছেন।
পবন খেরার দাবি, ওই প্রৌঢ় সোনাম ওয়াংচুকের বাবা সোনাম ওয়াংগ্যাল। ছবিটি ১৯৮৪ সালের। সেই সময় তিনি লাদাখের এসটি স্টেটাসের দাবিতে অনশন আন্দোলন করছিলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কালবিলম্ব না করে লাদাখ ছুটে যান এবং ফলের রস পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। কংগ্রেসের এহেন ছবি প্রকাশকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুরু থেকেই সোনাম ওয়াংচুক এবং সিজেপি’র অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রের অন্য কোনো মন্ত্রী-আধিকারিক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেননি। সোনামের স্বাস্থ্যের খোঁজও নেননি। এক্ষেত্রে ইন্দিরা গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদির ‘আচরণগত ফারাক’ বোঝানোর উদ্দেশ্যেই কংগ্রেস এদিন ছবিটি প্রকাশ করেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মোদি বিরোধিতায় আরও একজোট হয়েছে বিরোধীরা। শুক্রবার যন্তর মন্তরে যান সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও। অন্যদিকে, সোনামের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ‘র্যাঞ্চো’র ওজন আরও ৩৫০ গ্রাম কমে গিয়েছে।