Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে নষ্ট হচ্ছে ফসল, নদীর চর পাহারায় কৃষকরা

বাঁধ কেটে রাস্তা বানিয়ে ট্রাক্টর নদীর চরে নিয়ে গিয়ে বালি তুলছে মাফিয়ারা। কৃষিজমি কেটে নদীগর্ভ পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে নষ্ট হচ্ছে ফসল, নদীর চর পাহারায় কৃষকরা
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বাঁধ কেটে রাস্তা বানিয়ে ট্রাক্টর নদীর চরে নিয়ে গিয়ে বালি তুলছে মাফিয়ারা। কৃষিজমি কেটে নদীগর্ভ পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। অবশেষে বালি পাচার রুখতে কৃষকরাই আন্দোলনে নামলেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে পতিরামের হরিহরপুরে নদীর চর পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা। ধাওয়া করে তাঁরা একটি ট্রাক্টরকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন অভিযান চালানোর পর কিছু সময় বালি তোলা বন্ধ থাকে। আবার যে কে সেই অবস্থা হয়ে যায়।

Advertisement

কৃষকদের দাবি, কোনওভাবেই তাঁদের জমির উপর দিয়ে আর ট্রাক্টর নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। পুলিশ ও প্রশাসনের উপর ভরসা উঠে যাওয়ায় এবার নিজেরাই আইন হাতে তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। এদিন দীর্ঘক্ষণ নদীর চরে বিক্ষোভ চলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পতিরাম থানার পুলিশ সহ বিশাল  বাহিনী। তারা বুঝিয়ে ওই বিক্ষোভ সামাল দেয়।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও রাজস্ব) ইজাম আহমেদ বলেন, প্রশাসনের তরফে প্রতিদিন বালি চুরির বিরুদ্ধে অভিযান চলে। বেআইনি বালি ভর্তি ট্রাক্টর দেখতে পেলেই এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত বিএলআরও’কে। এদিনের বিক্ষোভ সম্পর্কে পুলিশকে অবগত করা হবে যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর তীরে হরিহরপুর গ্রাম। ভৌগলিক কারণে গ্রামটি বালি মাফিয়াদের কাছে নিরাপদ স্থান। প্রত্যন্ত ওই গ্রামে প্রশাসনের গাড়ি গেলে আগে থেকেই বুঝতে পারে মাফিয়ারা। সেকারণে বারবার অভিযান চালিয়েও লাভ হয় না। ওই জায়গায় কোটি টাকা খরচ করে প্রশাসনের তরফে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বাঁধের উপর দিয়েই ট্রাক্টর নদীতে নামছে। একাধিকবার ওই গ্রামে বাঁধ কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই নদীর মাঝ বরাবার বালির বাঁধও দিয়েছিল বালি মাফিয়ারা। যদিও সেগুলি প্রশাসন এবং পুলিশ ভেঙে দেয়। কিন্তু ফের বালি চুরি বেড়েছে। নদীর জল কৃষকরা পাচ্ছেন না। ফলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয় ফসলের জমিও নষ্ট হচ্ছে। এনিয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে বলেও কাজে দেয়নি। দু’সপ্তাহ আগেও এনিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে গ্রামবাসীরা অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এদিন বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারী রাজ্জাক মণ্ডল এবং রঞ্জিত মণ্ডল বলেন, আমাদের জমিগুলি বালি মাফিয়ারা নষ্ট করেছে। আমরা চাষের জল পাচ্ছি না। আমরা প্রশাসনকে লিখিত দিয়েছি। তবুও লাভ হচ্ছে না। তাই আমরাই এবার আইন নিজের হাতে তুলে নেব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ