


সংবাদদাতা, কালনা: গরম পড়তে না পড়তে কমছে রক্তদান শিবির। তাতেই রক্তের প্রবল সংকট শুরু হয়েছে কালনা মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে। যেখানে প্রতিদিন প্রয়োজন ৩০-৪০ ইউনিট রক্ত। সেখানে শনিবার বিভিন্ন গ্রুপের রক্ত মিলিয়ে মজুত ভাণ্ডারে রয়েছে মাত্র ৩১ ইউনিট। যা একদিন চলতে পারে। রক্ত পেতে গেলে রোগীর পরিজনদের ডোনারকে সঙ্গে আনতে হচ্ছে। রক্ত পেতে কার্যত দিশাহারা রোগীর পরিজন। রক্তের এই সংকট মেটাতে দফায় দফায় বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শিবির বাড়ানোর চেষ্টা করছে কালনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কালনা মহকুমা হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল মিলিয়ে রয়েছে মোট ৫৩৪টি শয্যা। এইচডিইউ, এসএনসিইউ, মাইক্রো সার্জারি, ডায়ালিসিস, সিটিস্ক্যান সহ পাইপ লাইনের মাধ্যমে হাসপাতালে অক্সিজেন পান রোগীরা। যাবতীয় পরিষেবা বিনামুল্যেই পান রোগীরা। হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার জন্য দিনকে দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ইন্ডোর ও আউটডোর (ছুটির দিন বাদে) মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী পরিষেবা পান এই হাসপাতালে। রয়েছে উন্নত মানের ব্লাড ব্যাংক। মহকুমা হাসপাতাল, সুপার স্পেশালিটি ও বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে রক্তের সরবরাহ করে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক। প্রতি বছরই গরমে রক্তদান শিবির কমে যায়। তবে, এবার বিগত বছরগুলির তুলনায় চলতি মাসে শিবির কম থাকায় হাসপাতালের মজুত রক্তের ভাণ্ডার তলানিতে ঠেকেছে। ফলে চরম রক্ত সংকটে কালনা সুপার স্পেশালিটি ও মহকুমা হাসপাতাল।
হাসপাতালের সহকারি সুপার শামিম মল্লিক বলেন, প্রত্যেক বছর গরম পড়লে রক্ত সংকট হয়। এবার যেন একটু আগেভাগেই সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে রমজান মাস চলছে, অন্যদিকে মাঠে আলু ও পেঁয়াজ ওঠার কাজে বহু মানুষ যুক্ত থাকায় চলতি মাসে রক্তদান শিবির কমে গিয়েছে। ফলে সংকটে পড়েছে হাসপাতাল। রক্তদান শিবির বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠক ও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে। বড় শিবির করায় সমস্যা থাকলে হাসপাতালে এসেও রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।