


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের মূল্যবৃদ্ধির হার কত, নির্দিষ্ট সময় অন্তর তার তথ্য দেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। সেই হারের উপর নির্ভর করে রেপো রেট নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সেই রেপো’র উপর নির্ভর করেই আমানত ও ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হয়। পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির হারের উপর ভিত্তি করেই হরেক নীতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রশাসনিক তরফে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে। সেই মূল্যবৃদ্ধির হার নির্ধারণ সঠিকভাবে হচ্ছে কি? এাবার সেই প্রশ্ন তুলল অন্যতম ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল। তাদের বক্তব্য, মূল্যবৃদ্ধির হার নির্ধারণে সোনার দামের ওঠা-পড়াকে অনেকটাই গরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অথচ ওই ধাতুর দামের ওঠানামা নির্ভর করে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। ক্রিসিলের বক্তব্য, দেশীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি কী, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হলে সোনাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত। মূল্যবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করতে হরেক পণ্য ও পরিষেবার দামকে তালিকায় রাখা হয়। খুচরো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির (সিপিআই) মূল হিসেব কষতে যে তালিকা তৈরি হয়, সেখানে খাদ্যদ্রব্য, ভোগ্যপণ্য, ধাতু, ইমারতি, জ্বালানি, পরিবহণ, আবাসনের মতো নানা পণ্যকে রাখা হয়। কিন্তু বাস্তবে বা প্রকৃতঅর্থে মূল্যবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি কী, তার নির্ধারণে সেই তালিকা থেকে খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানিকে বাদ রাখা হয়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানির দামের ওঠানামা অতিদ্রুত হয়। তাই তা মূল্যবৃদ্ধির হারকে অত্যন্ত প্রভাবিত করে। সেই কারণেই মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত তথ্য (কোর ইনফ্লেশন) পেতে তাদের হিসেবকে বাদ রাখা হয়। ক্রিসিলের দাবি, প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধির তথ্য পেতে সোনাকেও বাদ রাখা হোক তালিকা থেকে। তাদের বক্তব্য, সোনার দামের তীব্র ওঠাপড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত তথ্য সামনে আসার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সোনাকে বাদ রাখার দু’টি কারণ সামনে এনেছে ওই ক্রেডিট রেটিং সংস্থা। প্রথমত, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের মূল্যবদ্ধির চেয়েও দ্রুত হারে বদলাচ্ছে সোনার দাম। তাই যে যুক্তিতে খাদ্যপণ্যকে তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়, সেই যুক্তিতেই সোনাকেও বাদ দেওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, সোনার গয়নার চাহিদা এদেশে অনেক বেশি ঠিকই। কিন্তু হলুদ ধাতুর দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফে সোনা কেনা, ইটিএফ বা অন্যকোনও মাধ্যমে সোনায় বিনিয়োগ এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক নানা কাণ্ডের প্রভাব। এগুলি এমন ইস্যু, যার সঙ্গে বাজারের সম্পর্ক কম।
২০২৫ সালের মে মাসে দেশের প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৪.২ শতাংশ। একবছরে তা ১.১১ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির মূল কারণ পাঁচটি ক্ষেত্রের মূল্যবৃদ্ধি। সেগুলি হল মোবাইল খরচ, বেড়ানো ও যাতায়াত খরচ, প্রসাধনী খরচ, রুপো ও সোনা। ক্রিসিলের দাবি, যদি সোনার দামের স্বাভাবিক ওঠাপড়া চলত, তাহলে গতমাসে মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়াত ৩.৪ শতাংশ। সেই হার যদি ঘোষিত হতো, তাহলে সুদের হারে তার প্রভাব পড়তে পারত, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সোনার দরকে মূল্যবৃদ্ধির হার নির্ধারণের অন্যতম উপাদান হিসেবে সরিয়ে রাখার হয়ে সওয়াল করেছেন তাঁরাও।