শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: রাস্তায় সন্দেহভাজন কাউকে আটক করার পর, সংশ্লিষ্ট কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কি না জানতে রাজ্য পুলিশের সময় লাগবে মাত্র ৩৮ সেকেন্ড। পোর্টেবল মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে ন্যাশানাল ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে নেওয়া হবে, সে ‘ওয়ান্টেড’ কি না। দ্রুত শনাক্ত করা যাবে অভিযুক্তকে। বাংলায় এই অ্যাপ চালু হতে চলেছে। এতে সন্দেহভাজনের পক্ষে পালিয়ে বাঁচা সম্ভব হবে না।
অনেক সময় পুলিশের নজর এড়াতে অভিযুক্ত একাধিক নাম নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। শনাক্ত না হওয়ার কারণে তাকে ধরা যায় না। আবার অভিযুক্তের বাড়ি গিয়ে অনেক সময় নামের গরমিলের কারণে তদন্তকারী অফিসারকে বোকা বনে যেতে হয়। গ্রেপ্তারের পর জামিনে ছাড়া পেয়ে অপরাধের ধরন বদলে ফেলে অভিযুক্ত। এভাবে একের পর অপরাধ করেও, পুলিশের নাগালের বাইরে থেকে যায় সে। এহেন সমস্যা মোকাবিলায় থানা-ফাঁড়িকে আরও প্রযুক্তি নির্ভর করতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি অ্যাপ চালু করেছে। যেখানে রাস্তায় সন্দেহভাজনকে আটক করে আঙুলের ছাপ নেওয়া যাবে। সেই সঙ্গে এক মিনিটের কম সময়ে বলে দেওয়া যাবে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোথায় কোনো মামলা ঝুলে রয়েছে কি না, বা আগে সে গ্রেপ্তার হয়েছে কি না। এই অ্যাপ এবার বাংলায় চালু হচ্ছে। যা পুলিশ কর্মীদের মোবাইলে থাকবে। এটি সংযুক্ত রয়েছে ন্যাশানাল অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের সঙ্গে। যেখানে অভিযুক্ত, সাজাপ্রাপ্ত মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি দুষ্কৃতীর আঙুলের ছাপ রয়েছে। যা ধরা পড়ার পর থানায় বা জেলে যাওয়ার সময় সংগ্রহ করা হয়েছে। রাস্তায় নাকা চেকিংয়ের সময় গাড়িতে থাকা কোনও ব্যক্তি বা হেঁটে যাওয়া ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন মনে হলে তাকে আটক করে, তার ফিঙ্গার প্রিন্ট সঙ্গে সঙ্গে নিতে পারবেন পুলিশ কর্মীরা। ওই নমুনা জাতীয় ডেটাবেসে ফেলে মিলিয়ে দেখে নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কি না। গোটা প্রক্রিয়াটি করতে সময় লাগবে মাত্র ৩৮ সেকেন্ড। যদি সন্দেহভাজন অভিযুক্ত হয়, পুলিশ কর্মীরা তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। এই অ্যাপ প্রতিটি পুলিশ কর্মীর মোবাইলে ডাউনলোড করার জন্য পুলিশের শীর্ষস্তর থেকে নির্দেশ গিয়েছে বলে খবর। একইসঙ্গে কীভাবে এই অ্যাপ চালাতে হবে তাই নিয়ে প্রশিক্ষণ হবে পুলিশ কর্মীদের। এর পাশাপাশি তৃণমূল জমানায় চালু না হওয়া ভারত সরকারের মেজারমেন্ট কালেকশন পোর্টালেও জুড়ছে রাজ্য। এখন থেকে কোনও অপরাধী ধরা পড়লেই, তার আঙুলের ছাপ নিয়ে এই পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এই পোর্টালটির সঙ্গে ন্যাশানাল টোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফেকেশেন সিস্টেমের সংযোগ রয়েছে।