• একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নবাগত অভিনেত্রী স্নেহা হঠাৎ করে নিখোঁজ যায়। পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হলেও দ্রুত তা অচলাবস্থায় পৌঁছয়। তখনই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন কিন্তু প্রায়ই উপহাসের শিকার হওয়া এক মহিলা কনস্টেবল ‘দেবী’ নিজেই সমান্তরাল তদন্ত শুরু করে। গল্প যত এগোয়, দেবীকে তার তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি ব্যবহার করে অপরাধীদের ছলনা ভেদ করতে হয়। এভাবেই এগিয়েছে নতুন সিরিজ ‘দেবী’র গল্প। প্রতিশোধ স্পৃহা, ধর্ম ও রহস্যের জালে আবর্তিত এই সিরিজ শীঘ্রই দেখা যাবে ‘ক্লিক’-এর ওটিটি চ্যানেলে। পরিচালনায় অনির্বাণ চক্রবর্তী। আজ, মঙ্গলবার মুক্তি পেল তার ফার্স্ট লুক।
‘দেবী’ সিরিজে অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়, আভেরি সিংহ রায়, অম্লান মজুমদার, অনির্বাণ ভট্টাচার্য প্রমুখ অভিনয় করেছেন। গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন অম্লান মজুমদার। পরিচালক বলেন, ‘দেবী একটি ক্রাইম থ্রিলার। আমার মনে হয়, কাজের ক্ষেত্রে মহিলারা অনেক সময় বেশি আন্তরিক ও নিবেদিতপ্রাণ হয়, তবুও পুরুষরা প্রায়ই তাদেরকে হালকাভাবে নেয়। এখানে উল্লেখ্য বিষয়, আমাদের দেশে ‘দেবী’ শক্তির প্রতীক হিসেবে পূজিত হন। এই গল্পে মুখ্য চরিত্র দেবী—একজন আবেগপ্রবণ মহিলা কনস্টেবল, যাকে নিজের সহকর্মীদের পক্ষপাত ও নানা চ্যালেঞ্জের সঙ্গেও লড়তে হয়।’
শ্যুটিংয়ের বেশিরভাগটাই হয়েছে আউটডোরে। শ্যুটিং চলাকালীন অসংখ্য মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তার একটি শেয়ার করলেন অনির্বাণ। তাঁর কথায়, ‘যে থানায় আমরা শ্যুটিং করছিলাম, সেখানে আমাদের কিছু শিল্পী পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন, আর আসল পুলিশ কর্মীরা কখনো পাশ দিয়ে যাওয়া দৃশ্যে বা জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। যখন তাঁরা ঠিকমতো শট দিতে পারছিলেন না, তখন আমি একটু বকেছি। যতই হোক, তাঁরা তো আসল পুলিশ!’
এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন আভেরি। তাঁর প্রথম পছন্দ হয়েছিল গল্প। তিনি বলেন, ‘দেবী নামের মধ্যেই এক অদ্ভুত শক্তি লুকিয়ে আছে। তবুও, জীবনের নানা চাপ ও সংঘাতের মধ্যেও কিছু নারী নিজের শক্তিতে সত্যিকারের ‘দেবী’ হয়ে ওঠেন। আমার চরিত্রটিও ঠিক তেমনই। তার মনে একসঙ্গে অনেক ছোটো ছোটো অনুভূতি কাজ করে। কিন্তু কোন অনুভূতি কখন প্রাধান্য নেবে, তা আগে থেকে বোঝা কঠিন। এই বিষয়টাই দেবীর চিত্রনাট্যকে আমার কাছে এত আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। এই চরিত্র যদি একজন মহিলাকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে, তাহলেই এই গল্প এবং আমার অভিনয়ের সার্থকতা খুঁজে পাব।’
সব সময়ই ভিন্ন চরিত্রের সন্ধানে থাকেন অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর উপলব্ধি, ‘স্ক্রিপ্টটা পড়ার পর বুঝতে পারলাম, এর আগে আমি গডম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেছি ঠিকই, কিন্তু এখানে সেই চরিত্রের সম্পূর্ণ আলাদা এক রং রয়েছে। সেটাই আমাকে অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে ঘৃণা যেন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। মানবিকতার ধ্বংসই সব অশুভের মূল। ভালোবাসা, সততা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া—এই গুণগুলোই আমাদের একটি সুখী জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’