


কলকাতা, ১৬ ফেব্রুয়ারি: টি-২০ বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার হুমকি নাটক কম করে নি পাকিস্তান। শেষমেশ আইসিসির চাপে একগুচ্ছ শর্ত চাপিয়ে গতকাল মাঠে নামে তারা। মহসিন নাকভিরা যখন নাটকে ব্যাস্ত ছিলেন তখন মুখে কুলুপ এঁটেছিল ভারতীয় বোর্ড। কারণটা বোঝা গেল গতকাল ম্যাচে। পাকিস্তানের অক্রিকেটীয় মনোভাবের জবাব মাঠে দিলেন সূর্যকুমাররা। সালমান আঘাদের ৬১ রানে হারিয়ে। ক্রিকটে দুরমুশ তো হলেনই, মাঠে বসে নাকভি দেখলেন ম্যাচ খেলার জন্য তার রাখা করমর্দন শর্তকেও পাত্তা দিল না টিম ইন্ডিয়া। অর্থাৎ খেলায় তো বটেই, খেলার বাইরেও নাস্তানাবুদ হয়ে মুখ পুড়ল নাকভিদের।
ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা । কিন্তু সেই খেলাকে ক্রমশঃ রাজনীতির নোংরা আখড়ায় পরিনত করার দায়িত্ব নিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের দুই দোসর পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পরায় কার্যত ব্ল্যাক মেল করে, আইসিসির সঙ্গে একেবারে ডিল করতে নেমে পরেছিল দুই দেশ।
পাকিস্তানের সঙ্গে বোঝাপরা করতে লাহরে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল আই সিসির প্রতিনিধি দল। আর নিজেদেরে স্বার্থ রক্ষার্থে সেই বৈঠকে ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। পাক বোর্ড এবং বাংলাদেশ বোর্ডের ভারত বিদ্বেষের একটা বড় কারণ মাঠের বাইরে বিসিসিআই এর বৈভব আর মাঠে ক্রিকেটারদের দাপট। যে দাপট মাঠে ফের প্রমাণ করলেন ঈশান কিষাণরা। শোনা যাচ্ছিল পিসিবি এবং বিসিবি মিলে বিশ্ব ক্রিকেটে পৃথক এক সংস্থা তৈরি করতে পারে। আর তা নিয়ে আলোচনা শুরু করে তারা বুঝে যায় এই পরিকল্পনায় তারা আর কোন দেশকে পাশে পাবে না। ফলে সে পরিকল্পনাও বিষ বাঁও জলে। তাহলে কি করা যায় ? ম্যাচ না খেলার ধোঁয়া তুলে যদি একটু নিজেদের আখের গুছিয়ে নেওয়া যায়। আর তাই আইসিসির সঙ্গে পাক বৈঠকে হাজির হন বিসিবি প্রধানও। আলোচনা ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের চলতি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে। কিন্তু হয়ে দাড়িয়েছিল পাওনা-গন্ডার হিসাব বুঝে নেওয়ার খেলা । ম্যাচ খেলার জন্য শর্ত আরোপ করেছিলেন মহসিন নাকভিরা। প্রথমত আইসিসির লাভের একটা বড় অংশ তাদের দিতে হবে। পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে ভারত যাতে তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে। যা বন্ধ রয়েছে প্রায় ১০ বছর। অন্য একটি আবদার, ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করতে হবে। এই শর্ত যে আদৌ আইসিসিও খুব একটা পাত্তা দেয়নি তা বোঝা গেল ম্যাচের দিন টসের পরে দুই অধিনায়কের হাত না মেলানয়। মনে করা হচ্ছে এই শর্ত গুলো রাখার জন্য ভাল সুযোগ পাচ্ছিলেন না নাকভিরা। তাই বিশ্বকাপে সব থেকে হাই প্রোফাইল ম্যাচ না খেলার হুমকি নটক। কম যায় না বাংলাদেশও। তারাও ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টা করেছে। পুরোটাই আইসিসির থেকে বাড়তি অর্থ প্রাপ্তির ছক। করমর্দন ইস্যুর বাইরে আইসিসি কতটা বাকি শর্তগুলো পুরণ করবে তা সময়ই বলবে। তবে পিসিবি এবং বিসিবি দুই বোর্ডই বুঝেছিল তাদের শর্তের কিছুটাও যদি পুরণ করাতে হয় তাহলে ১৫ ফেৱ্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামতেই হত। আর তাই নিজেদের ঘোষণা থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছিল পাকিস্তান।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেটিয় সম্পর্কের অবনতি শুরু গত বছর পাক জঙ্গিরা পহেলগাঁওতে নির্মম হত্যালীলা চালানোর পর থেকে। যার জেরে ২০২৫ এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে না খেলে, দুবাইএর নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলে। তখনই সিদ্ধান্ত হয় ২০২৬ বিশ্বকাপেও ভারতে খেলবে না পাকিস্তান। তাদের সব ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কায়। তবে তাদের দেশে না খেললেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে আপত্তি করে নি ভারত । কারণ, এই ম্যাচটি আর পাঁচটা ক্রিকেট ম্যাচের থেকে অনেকটাই আলাদা। এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকে গোটা বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীরা তো বটেই এমনকি আইসিসি,স্পনসর,সম্প্রচারকারী চ্যানেল সকলেই । কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে সম্পূর্ন অক্রিকেটীয় কারণে ভারতের বিরুদ্ধে নিরপক্ষে ভেন্যুতেও খেলতে নারাজ বলে নাটক শুরু করে পাকিস্তান। তাদের যুক্তি ভারতকে প্রাধান্য দিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অন্যায় করেছে আইসিসি। এখন প্রশ্ন পাকিস্তানের এই রাগের কারণ কি শুধুই বাংলাদেশকে খেলতে না দেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্বক্রিকেটে মাঠে এবং মাঠের বাইরে ভারতের আধিপত্য কার্যত অসহ্য হয়ে উঠেছে পাকিস্তনের কাছে। আর তাই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের নাক কেটে অন্যদের যাত্রা ভঙ্গ করার ফন্দি এঁটেছিল পাকিস্তান। গত একবছরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পাকিস্তান-বাংলাদেশ অনেকটা কাছাকাছি আসায় তারা জুটি বেঁধে গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করেছে। লক্ষ্য একটাই আইসিসিকে শিখন্ডী করে বিশ্ব ক্রিকেটে মাঠের বাইরে বিসিসিআইকে চ্যালেঞ্জ জানানো।