শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষক নেতা। টাকা দিয়েও চাকরি না হওয়ায় সেই নেতার বাড়ির দখল নিলেন পাওনাদার। ঘটনায় তমলুক ব্লকের নীলকুণ্ঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের কণ্ঠীবাড় গ্রামে শোরগোল পড়েছে। ওই শিক্ষক নেতার নাম সুকুমার মাইতি। তিনি তমলুক ব্লকের চনশ্বরপুর নবিড়িয়া প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। বাড়ি থেকে সপরিবারে তাঁকে বের করে দেওয়ায় আপাতত তিনি ভাড়াবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। গত ১২জুন তাঁর বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআর হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে ১৭লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন বলে দুর্গা মাইতি অভিযোগ দায়ের করেন।
দুর্গার স্বামী অজিত মাইতি সদ্য মারা গিয়েছেন। অজিতবাবু বিভিন্নজনের কাছ থেকে ১৭লক্ষ টাকা নিয়ে তা ওই শিক্ষককে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগকারী এফআইআরে জানিয়েছেন। তমলুক থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কণ্ঠীবাড় গ্রামের প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক সুকুমার তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের নেতা ছিলেন। নিজের গ্রামে অনেকের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার কণ্ঠীবাড় গ্রামে তাঁর দখল হওয়া বাড়িতে যেতেই সেখানে উপস্থিত হন প্রতারিত মহাদেব প্রামাণিক। তিনি বিজেপির বুথ কমিটির সদস্য। মহাদেববাবু বলেন, আমি ওই শিক্ষককে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছি। আমার মতো গ্রামের অনেকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন ওই শিক্ষক। এই অবস্থায় মাস দেড়েক আগে আমাদের গ্রামেরই অজিতবাবুর ছেলে অমিত মাইতি ওই শিক্ষকের বাড়ি দখল নিয়েছেন। গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।কণ্ঠীবাড় সমবায় সমিতির সহ সভাপতি অসিত কর বলেন, ওই শিক্ষক গ্রামের অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমাদের সমিতি থেকে এক লক্ষ টাকা নিয়ে ঋণখেলাপি। পাওনাদার তাঁর বাড়ির দখল নিয়েছেন। এখন তিনি ভাড়াবাড়িতে থাকেন। পেশায় শিক্ষক হওয়ায় ও তাঁর মাছের আড়ৎ থাকায় অনেকেই ভরসা করে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। আমরা সমিতি থেকে বারবার নোটিস দেওয়ার পরও পাওনাগণ্ডা মেটাচ্ছেন না। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সুকুমার মাইতি বলেন, আমি চাকরি দেওয়ার নামে কোনও প্রতারণা করিনি। তবে, ধার হিসেবে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলাম। অজিত মাইতির কাছ থেকেও ঋণ নিয়েছিলাম। কিন্তু, শোধ দিতে পারিনি। এই মুহূর্তে আমার বাড়িতে ওরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর হয়েছে বলে শুনেছি।অভিযুক্ত শিক্ষক সুকুমারের কণ্ঠীবাড় গ্রামে একতলা পাকাবাড়ি। বাড়ির সামনে হরিমন্দির। স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সেই বাড়িতে থাকতেন। অভিযোগকারী দুর্গাদেবীর ছেলে অমিত বাড়ির দখল নিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। দুর্গাদেবী বলেন, আমার স্বামীকে এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করে চাকরি পাইয়ে দেবে বলে টাকা তুলিয়েছিল অভিযুক্ত শিক্ষক। আমার স্বামী ১৭লক্ষ টাকা ওই শিক্ষককে দিয়েছিলেন। তাঁদের কারো চাকরি হয়নি। কিন্তু, টাকাও ফেরত দেননি। গ্রামে এনিয়ে অনেকবার সালিশি সভা হয়েছে। পাওনাদাররা আমার স্বামীকে চাপ দিত। মানসিক অবসাদে স্বামী মারা গিয়েছেন। এই অবস্থায় আমরা ওই শিক্ষকের বাড়ির দখল নিয়েছি।