নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এক সময় ছিল বাম দুর্গ। ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরের সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদ দখল করেছিল তৃণমূল। সেই থেকেই পরিবর্তনের হওয়া উঠেছিল। তারপর একের পর এক নির্বাচনে ঘাসফুল একাধিপত্য কায়েম করে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের প্রায় দু’দশকের এই গড় শেষ অবধি অক্ষত রইল না এবারের বিধানসভা ভোটে। তাদের দুর্গে ফাটল ধরিয়ে পদ্মফুলের ঝান্ডা গেঁথে দিল বিজেপি। সোনারপুর দক্ষিণ, গোসাবার মতো আসনে তৃণমূলকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। আরও কয়েকটি আসনে একেবারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলেছে সন্ধ্যা পর্যন্ত। কিন্তু শেষমেশ সাগর, কাকদ্বীপ এবং সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রে জোড়াফুলকে সরিয়ে জয়ের সরণিতে নাম তুলল পদ্মপার্টি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ছ’টি শহুরে বিধানসভা ধরে মোট আসন সংখ্যা ৩১। ২০২১ সালে এর মধ্যে ৩০টি পেয়েছিল তৃণমূল এবং একটি পেয়েছিল আইএসএফ। এবারের নির্বাচনে ওই ফলেরই পুনরাবৃত্তি হবে বলে আত্মবিশ্বাসী ছিল তৃণমূল। কিন্তু ইভিএম খুলতেই সব হিসাব উলটে যায়। গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূলের একাধিক আসন বেসামাল হতে শুরু করে। সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্র প্রথম থেকেই ছিলেন পিছিয়ে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায় প্রতিটি রাউন্ডেই এগিয়েছেন। বিকালেই সেই ব্যবধান প্রায় ৩০ হাজারে পৌঁছে যায়। তখনও কয়েক রাউন্ড গণনা বাকি। একই ছবি গোসাবা কেন্দ্রেও। ভোটের আগে তৃণমূলের এই এলাকার একটি বড়ো অংশ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করে। তখন থেকেই জল্পনা শুরু, এই আসন তৃণমূল ধরে রাখতে পারবে কি? এদিন গণনা শুরু হতেই জয়ের ব্যবধান বাড়তে থাকে বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্করের। সন্ধ্যায় এই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজারে।
কাকদ্বীপ কিংবা সাগরেও কোনো কিছুই ধোপে টেকেনি। ভোটের আগে গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে চমক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন, ভোটে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর অন্যতম ফ্যাক্টর হবে। কিন্তু ভোটের ফলে তার কোনো প্রভাবই পড়েনি। বিজেপি দখল নিয়েছে এই কেন্দ্রের। অবশ্য কুলতলি এবং মেটিয়াবুরুজ দখলে রাখতে পেরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়াও এই খবর লেখা পর্যন্ত মহেশতলা, বজবজ সহ কয়েকটি আসনে তৃণমূল প্রার্থীরা এতটাই বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন যে, সেগুলিতে শেষ অবধি জয় হাসিল করবেন তাঁরা।