


সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে রামে যাওয়া বামভোট ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জোরদার প্রচারে নেমেছে সিপিএম। বামভোট ফিরিয়ে আনার স্লোগানকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে প্রচার চালাচ্ছেন সিপিএম প্রার্থী দিলীপ সিং।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই কেন্দ্র বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে গড়ে ওঠে। বামভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে সরে যাওয়াই এর প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বাম নেতৃত্বের একাংশ। সম্প্রতি শিলিগুড়ির টিকিয়াপাড়ায় নির্বাচনি সভায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের উপস্থিতিতে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ও শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে সেই কথাই স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তৃণমূলকে হারাতে বামভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে চলে গিয়েছিল। এবার সেই ভোট ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য।
এই কেন্দ্রের নির্বাচনি পরিসংখ্যান সে কথাই বলছে। ২০১১ সালে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব ৪৮.২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিপিএম প্রার্থী দিলীপ সিং পান ৪১.৮৮ শতাংশ ভোট। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের ভোট ৩৭ শতাংশ হয়। বিজেপি পেয়েছিল ১১ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। কিন্তু ২০২১ সালে পুরো চিত্রটা উলটে যায়। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ধারা বজায় রেখে বিজেপি এই কেন্দ্রে জয়ী হয়। পদ্ম প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পান। যেখানে সিপিএম প্রার্থী দিলীপ সিং মাত্র ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যান।
এই পরিস্থিতিতে প্রচারে নেমে দিলীপ সিং দাবি করছেন, গত ১৫ বছরে এখানকার মানুষ তৃণমূল ও বিজেপি- দুই দলের বিধায়ককে দেখেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মতো উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর কথায়, মানুষ এখন সচেতন। তাঁরা বুঝতে পারছেন, গত তিনটি ভোটের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি তৃণমূল এবং বিজেপি জেতার পর পূরণ করেনি।
প্রচারে তিনি ভোটারদের বোঝাচ্ছেন, নিজেদের সুরক্ষা, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শান্তি-শৃঙ্খলার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবার। গত পাঁচ বছর বিজেপি বিধায়ককে পাওয়া যায়নি। কোনো কাজ করেননি। সেখানে ক্ষমতায় না থেকেও সিপিএম সারাবছর মানুষের পাশে থাকে। এপ্রসঙ্গে সিপিএম প্রার্থী সম্প্রতি শালুগাড়া এলাকায় উচ্ছেদ ইস্যুতে সিপিএমের আন্দোলনের কথা তুলে ধরেছেন প্রচারে। দাবি করেছেন, লাগাতার তাঁদের আন্দোলনের ফলেই কিছু ক্ষেত্রে পুনর্বাসন সম্ভব হয়েছে। এই ইস্যুকেও হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন দিলীপ সিং। সেই সঙ্গে তাঁর আবেদন, রামে যাওয়া বামভোট ফিরে আসুক।
বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় ও তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীলশর্মার বক্তব্য, ৩৪ বছরে মানুষ বামেদের চিনে নিয়েছেন।