


মৃন্ময় বসাক, কালিয়াগঞ্জ: রামে যাওয়া ভোট বামে ফেরানোই এবার বড় চ্যালেঞ্জ হেমতাবাদের সিপিএম প্রার্থী তনুশ্রী দাসের। গত বিধানসভা ভোটের আগেও ‘বামেদের গড়’ ছিল হেমতাবাদ। তারপর ফোটে ঘাসফুল। সেবার বামেদের ভোট রাম অর্থাত্ বিজেপিতে চলে যাওয়ায় সিপিএমের পরাজয় হয়েছিল বলে নেতৃত্বের দাবি। সেই ভোট ফেরাতে এবারে জোর প্রচারে নেমেছেন সিপিএম প্রার্থী তনুশ্রী। গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের জোয়ারে হেমতাবাদের ঊর্বর মাটিতে ঘাসফুল এবার আরো বড় হবে বলে দাবি তৃণমূল প্রার্থী সত্যজিত্ বর্মনের দাবি। এবারও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী।
রবিবার জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার সারেন সিপিএম প্রার্থী। মানুষের কাছে গিয়ে তনুশ্রীর আহ্বান, ভোট সুইং করা যাবে না। কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন, রামে যাওয়া ভোট বামে ফেরাতে হবে। প্রচারে মানুষের সাড়া দেখে আত্মবিশ্বাসী সিপিএম প্রার্থী। বলছেন, পুনরায় আস্থা ফিরছে দলের প্রতি। সাধারণ মানুষ এবার দুই ফুলের বিরুদ্ধে সিপিএমকে ভোট দেবে। এবিষয়ে বিজেপির হেমতাবাদ মণ্ডল সভাপতি বিপ্লব সরকার বলেন, এর আগেও বামের ভোট আমাদের দলে এসেছিল। এবার আরো বেশি আসবে। কারণ, বামেদের প্রতি আস্থা নেই মানুষের। রাজনৈতিক মহল বলছে, হেমতাবাদ বরাবর বামেদের দুর্গ ছিল। ২০১১ সালে হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র গঠনের পর দু’বার জয়ী হয়েছিলেন সিপিএমের দেবেন রায়। যদিও পরে তিনি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। বামেদের বক্তব্য, গত বিধানসভায় তাদের ভোট অন্য দলে গিয়েছিল। এবার সেই ভোট পুনরুদ্ধারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বাম নেতৃত্ব। সিপিএমের হেমতাবাদ এরিয়া কমিটির সম্পাদক হান্নান আলী চৌধুরী বলেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে থেকে আমাদের প্রার্থী জনসংযোগ করছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের বেশিরভাগ ভোট বিজেপিতে গিয়েছিল। সেজন্য তৃণমূল বেরিয়ে গিয়েছিল। আমাদের সেই ভোট এবার ফিরবে। কারণ, প্রচারে গিয়ে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। যদিও সিপিএমকে পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল। হেমতাবাদের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী সত্যজিত্ বলছেন, গত পাঁচ বছরে আমি এলাকায় প্রচুর কাজ করেছি। এবারও জয়ী হব। রবিবারের ছুটির দিনে বিদায়ী বিধায়ক শেরপুর, রামপুর, জগদীশপুরে ভোট প্রচার করেন। হেমতাবাদের শেরপুরে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী সত্যজিৎ বর্মন।-নিজস্ব চিত্র