


নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: বাম আমলে সিপিএম নেতাদের কথা না শুনলে কপালে জুটত মারধর। কখনও কখনও গ্রামে বসত ‘গণ বিচারসভা’। সেখানেও সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার ছিল না। সেসব কথা এখনও গ্রামবাসীদের মনে আছে। এখন তাঁদের বাকস্বাধীনতা ফিরেছে। নানা প্রকল্পের রূপায়ণ হওয়ায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন। ছবিটা কেশপুর ব্লকের মুগবসান পঞ্চায়েতের।এই পঞ্চায়েতে সরকারি উদ্যোগে একটি ইংরেজিমাধ্যম বিদ্যালয় তৈরি হয়েছে। যার ফলে এলাকার প্রচুর ছেলেমেয়ের পড়াশোনার সুবিধা হবে। গত অর্থবর্ষে ১২টি নিকাশিনালা সংস্কার হয়েছে। এজন্য প্রায় ৪৩লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
মুগবসান পঞ্চায়েতের প্রধান রওসনা খাতুন ও উপপ্রধান চন্দনা দেব বলেন, পঞ্চায়েত এলাকায় জোরকদমে কাজ চলছে। এলাকার মানুষ নানা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। চলতি বছরে কাজের গতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, সিপিএমের অত্যাচার এলাকার মানুষ কোনওদিন ভুলবে না। এই পঞ্চায়েত এলাকায় আমার বাড়ি। বিরোধী দল করতাম বলে চাষের কাজও করতে দিত না। সবরকমভাবে আমাকে বয়কট করা হতো। এখন মানুষ সিপিএমকে বয়কট করেছেন। আগামী দিনে বিজেপিকেও বয়কট করবেন। একসময় মুগবসান এলাকা সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখানকার ২৩টি আসনই তৃণমূলের দখলে এসেছে। বিরোধীরা একটিও আসনে জিততে পারেনি। গত নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই পঞ্চায়েত বোর্ড জোরকদমে উন্নয়নের কাজ শুরু করে। এই অর্থবর্ষে মুগবসান পঞ্চায়েতে ১০টি রাস্তা সংস্কার হয়েছে। এজন্য প্রায়য় ৪৫লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ১০লক্ষ টাকায় নয়টি জলপ্রকল্পের কাজ হয়েছে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট চালু করতেও কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য বালতি এসে পৌঁছেছে। পঞ্চায়েত এলাকার বাড়ি বাড়ি সেই বালতি পৌঁছে দেওয়া হবে।স্থানীয়রা জানান, পঞ্চায়েত এলাকায় শান্তি ফিরেছে। পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে। তবু এখনও বেশ কিছু এলাকায় রাস্তার সমস্যা রয়েছে। যে কারণে মাঝেমধ্যেই এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া, কুবাই নদীর বাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন। এই বাঁধের সংস্কার না হওয়ায় একাধিক গ্রামের মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বেশ কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। তৃণমূলের স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি শেখ হাসানুর জামান বলেন, এলাকার মানুষের পাশে থাকাই আমাদের মূল কর্তব্য। সারাবছর ধরে দলের কর্মীরা নানা সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকেন। তৃণমূলের কেশপুর ব্লক সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা বলেন, ওই পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর কাজ হয়েছে। তবে কাজের পরিমাণ আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি। মুগবসানে আমাদের সংগঠন খুব মজবুত। নিজস্ব চিত্র