সিপিএমের যুব সম্মেলন ভেস্তে দিতে এসে পিঠটান, সংঘাতে আইএনটিউসি, বিএমএস, শিল্পাঞ্চলে প্রতিরোধের মুখে বিজেপি
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রবিবার জোড়া রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল শিল্পাঞ্চলে। দু’টি ঘটনাতেই চরম বিজেপি বিরোধী ঝাঁজ লক্ষ্য করলেন আসানসোলবাসী। রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের কর্মসূচি ছিল। সেখানে মানুষের অভাবনীয় উপস্থিতি দেখে চাঙ্গা শিল্পাঞ্চলের বিরোধী শিবিরও। কোথাও বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল বামেরা। কোথাও আবার পরিবর্তনের পর এই প্রথম শ্রমিক ছাটাই নিয়ে বিএমএসের চোখে চোখে রেখে প্রতিবাদ করল আইএনটিইউসি অনুগামী শ্রমিকরা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কার্যত পিছু হটে গেরুয়া শিবির। জেলার ন’টি বিধানসভা আসনেই জয়ী বিজেপি। এমন বিরোধী শূণ্য‌ প঩শ্চিম বর্ধমানে বিরোধীদের এহেন পুনর্জাগরণ অত্যন্ত তৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

Advertisement

এদিন, জামুড়িয়া থানার নন্ডিতে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফের শাখা সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল রু‌ইদাসপাড়ায়। সম্মেলন শুরুর আগে পতাকা উত্তোলন করার সময়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পতাকা ছাড়া বিজেপি কর্মী সমর্থকরা এলাকায় হাজির হন। তাঁদের হাতে ছিল মোটা বাঁশ। বামেদের অভিযোগ, বাঁশ নিয়ে তাঁদের কর্মীদের উপর প্রথম আক্রমণ শুরু করে বিজেপি কর্মীরা ও তাদের সঙ্গে থাকা দুষ্কৃতীরা। পালটা প্রতিরোধ করে বামেরাও। তাদের হটিয়ে নিজেদের সম্মেলন সফল করে ডিওয়াইএফ। সম্মেলন শেষে জামুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়। ডিওয়াইএফের প্রাক্তন রাজ্য কমিটির সদস্য বুদ্ধদেব রজক বলেন, ‘আমাকে বাঁশ নিয়ে মারতে এসেছিল। ওরা যে ভাষা বোঝে সেই ভাষাতেই জবাব দিয়েছেন আমাদের কর্মীরা।’
সিটুর জেলা সম্পাদক মনোজ দত্ত বলেন, ‘মানুষ বিজেপির অত্যাচারে অতিষ্ট। কোপ পড়ছে রুজিরুটিতে। মানুষই এবার  রুখে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্য লাগে বিজেপির কিসের এত ভয়? সব সময় বিরোধীদের কষ্ঠ রোধ করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে।’ জামুড়িয়ার বিজেপি বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘যারা গিয়েছিল তাদের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি কোনো যোগ নেই। বামেরা এলাকায় অশান্তি পাকাতে চায়। সরকারের প্রতি অবমাননাকর কথা বলেছে। তাই মানুষ প্রতিবাদ করেছে। বামেদের অত্যাচার মানুষ ভুলে যায়নি।’ যদিও ঘটনার কিছুক্ষণ  পরেই বামেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজয়নবাবুর সঙ্গে হামলাকারীদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেয়। 
অন্যদিকে, এদিন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল অণ্ডালে ডিভিসির তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে। পালাবদলের পর এই প্রথম বিএমএস ও আইএনটিইউসির মুখোমুখী সংঘাতে জড়াল। মে মাসের পর এদিনই প্রথম বিরোধীরা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করল। অভিযোগ, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে ৪০ জন ঠিকা শ্রমিককে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের কাজ থেকে বসিয়ে বিজেপির নির্দেশে বহিরাগতদের কাজ দেওয়া হচ্ছে কারখানায়। এর প্রতিবাদে মিছিল করে কারখানার গেট দিয়ে ঢুকতে চায় আইএনটিইউসির সমর্থক এই শ্রমিকরা। তাঁদের  হাতে ছিল আইএনটিইউসির ব্যানার। কারখানা গেটে ঢুকতে গেলে বিএমএসের কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএমএস নেতা প্রদীপকুমার মণ্ডল বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমাদের দাবি ছিল স্থানীয়দের কাজ দিতে হবে। সেই কাজই এদিন হচ্ছিল। নতুনকে কাজে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিতেই ওঁরা বাধা দিতে এসেছিল।’ আইএনটিইউসি নেতা বিশ্বনাথ আকুড়ে বলেন, ‘১৫ বছর ধরে এখানে সবাই নির্বিঘ্নে কাজ করছে। এখন স্থানীয়দের কাজ থেকে বসিয়ে বাইরের লোক ঢোকানো হচ্ছে। তারই প্রতিবাদ করা হয়েছে।’
 জামুড়িয়ায় ডি ওয়াই এফ আই এর সঙ্গে বিজেপির সংঘর্ষ।-নিজস্ব চিত্র