


মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার, হবিবপুর: মালদহের হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী হলেন বাসুদেব মুর্মু। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছে। এদিকে এদিন সকাল থেকেই দলীয় প্রতীক চিহ্ন এঁকে দেওয়াল লিখন সহ প্রচারে নেমে পড়েন নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে কংগ্রেসের তরফেও এখনও প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। কর্মীদের দাবি, জোট ছাড়া বহুদিন পর কংগ্রেস হবিবপুর বিধানসভায় লড়তে চলেছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি ও তৃণমূল। তারা এই প্রচারকে পাত্তা দিতে চাইছে না।
হবিবপুর বিধানসভা আগে এক সময় সিপিএমের গড় ছিল। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের উত্থানের পরেও সিপিএম তাদের দখলে রেখেছিল এই বিধানসভা। পরবর্তীতে বিধায়ক থাকাকালীন খগেন মুর্মু বিজেপিতে যোগদান করতেই সেই জায়গার দখল নেয় বিজেপি।
সিপিএম ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। তবে এখনও একমাত্র কানতুর্কা গ্রাম পঞ্চায়েত তাদের দখলে রয়েছে বলে দাবি সিপিএমের। তাছাড়া বিধানসভার বিভিন্ন পঞ্চায়েতে ১১ জন সদস্য ও দু’জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রয়েছেন। তাদেরকে হাতিয়ার করে প্রচারে নেমেছে সিপিএম। তাদের দাবি, বিজেপি কেন্দ্রে ও তৃণমূল রাজ্যে শাসন চালাচ্ছে। এই শাসনকালে মানুষ কোথাও ভালো নেই। কেন্দ্র সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তের জেরে মাঝেমধ্যেই মানুষকে হয়রান হতে হচ্ছে। কখনও আধার কার্ড, কখনও নোটবন্দি, আবার এসআইআরের নামে খেটে খাওয়া মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে নাজেহাল করছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল রাজ্যকে দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত করেছে। লক্ষীর ভাণ্ডার, যুবসাথীর মাধ্যমে সাময়িক কিছু অর্থের বিনিময়ে মানুষকে লোভ দেখিয়ে ভোট নেওয়ার চক্রান্ত করছে। চাকরির অবস্থা খুব খারাপ। কর্মসংস্থান নিয়ে ভুক্তভোগী কর্মপ্রার্থীরা।
সিপিএমের হবিবপুর ব্লক এরিয়া কমিটির সদস্য প্রদ্যুৎ বর্মন বলেন, হবিবপুরে মানুষ পুনরায় সিপিএমের উপর আস্থা রাখতে চলেছে। কংগ্রেসের হবিবপুর ব্লক সভাপতি সুব্রত কর্মকার বলেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফে প্রার্থীদের নামের তালিকা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণা হলেই প্রচার শুরু করে দেওয়া হবে। আগের তুলনায় এবার অনেক ভালো ফলের আশা রয়েছে। বিজেপির উত্তর মালদহ সাংগঠনির জেলা সম্পাদক বীণা কীর্তনীয়া বলেন, সিপিএম দিবাস্বপ্ন দেখছে। মানুষ বহু আগেই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। হবিবপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি স্বপন সরকার বলেন, হবিবপুরে বিজেপির সঙ্গে লড়াই শুধু তৃণমূলের।