সোহম কর, কলকাতা: আগে পেশাদার বিপ্লবী দিয়েই কাজ চলত সিপিএমের। এখন প্রয়োজন পড়েছে পেশাদার রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ডিজিটাল মার্কেটিয়ার্স এবং কনটেন্ট রাইটারদের। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম গতবছরই এই সংক্রান্ত নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেন। আলিমুদ্দিন সূত্রের খবর, হাজার দেড়েক আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে ২৫-৩০ জনকে বাছাই করা হয়েছে। কেমন ছিল সিপিএমের বাছাই পদ্ধতি? সূত্রের খবর, ইন্টারভিউ নেতারা নেননি। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের পেশাদাররাই ইন্টারভিউ নিয়ে পার্টিকে মতামত দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ওই টিম অ্যাডহক ভিত্তিতে কাজ আরম্ভও করেছে।
আলিমুদ্দিন সূত্রের খবর, নিয়োগের জন্য পার্টির নেতারা ইন্টারভিউ নেননি। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের অনেক পেশাদার পার্টি দরদি কিংবা সদস্য এই ইন্টারভিউ নিয়ে পার্টিকে মতামত দিয়েছেন। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অদূরেই অফিস এই টিমের। এক নেতার কথায়, এই টিমের লোকেরা আদ্যন্ত পেশাদার। তাঁরা একেবারে ১০টা-৫টা অফিস করবেন। এঁদের কেউ পার্টি সদস্য নন। কিন্তু পার্টির ভিতরের সমস্ত খবর তাঁদের কাছে থাকবে। সেক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই হয়েছে কীভাবে? আলিমুদ্দিন সূত্রের খবর, ইন্টারভিউ উতরে গেলে ওই সমস্ত প্রার্থীদের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড চেক’ হয়েছে। তাঁরা কলেজে পড়াকালীন রাজনীতি করতেন কি না, পারিবারিকভাবে রাজনীতিতে যুক্ত কি না, এই সমস্ত কিছু যাচাই করা হয়েছে। পেশাদারদের মতোই মাস মাইনে দেওয়া হবে তাঁদের। তা টাকার অঙ্কে কত? সূত্রের খবর, পার্টি কংগ্রেসের পরেই এই টিম পুরোপুরি কাজ করা শুরু করবে। তাঁদের মাইনেও বাজারের চাহিদা মেনেই ধার্য করা হয়েছে।
রাজ্য সম্মেলনে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রতিনিধিদের দেখানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, নতুন টিম ওই প্রেজেন্টেশন তৈরি করেছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সমীক্ষাও শুরু করবে এই টিম। পার্টির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির নামে এই প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, অনিল বিশ্বাস, প্রমোদ দাশগুপ্ত, সরোজ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো নেতাদের নামে আরও কয়েকটি প্রজেক্ট শুরু করবে বঙ্গ সিপিএম। পথে-মাঠে-ইন্টারনেটে বিধানসভায় একটা সিটের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে সিপিএম। এই স্বপ্ন বাস্তবের মুখ দেখবে কি না, তা অবশ্য সময়ই বলবে।