নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বোমা বিস্ফোরণে স্কুল পড়ুয়া তমান্না খাতুনের মৃত্যুকে সামনে রেখে পুরোদস্তুর রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়ল সিপিএম। বৃহস্পতিবার তমান্নার মৃত্যুর প্রতিবাদে কালীগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দেয় এসএফআই। কলেজের পাশাপাশি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যামিক এবং মাদ্রাসাগুলিকেও। ধর্মঘট সফল করতে কোথাও কোথাও জোর খাটানোরও অভিযোগ উঠেছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। স্কুলপড়ুয়াদের হাতে প্ল্যাকার্ড ধরিয়ে, স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট সফলের পথে হেঁটেছে তারা। তাতেও খুব একটা সাড়া না মিললেও ইন্ধন জুগিয়ে দিয়েছে তুমুল বিতর্ক তৈরিতে। নিন্দায় সরব হয়েছে শিক্ষামহলের একটা অংশ। অনেকেরই মতে, এভাবে একটা ছোট্ট মেয়ের মৃত্যুতে স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক হয়নি এসএফআইয়ের। এমন প্রতিবাদ কর্মসূচি তারা কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে ভালো করত। যদিও এসএফআইয়ের সাফাই, সহপাঠীর মৃত্যুর বিচার চাইতেই স্কুল পড়ুয়ারা মাঠে নেমেছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের ডাকা ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল। ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।
কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে ভোট গণনার দিন বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারায় চতুর্থশ্রেণির ছাত্রী তমান্না। মোলান্দি গ্রামে তার বাড়ি। অভিযোগ, গ্রামে তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে তমান্নার বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। সেটির বিস্ফোরণে প্রায় ৯০ শতাংশ ঝলসে যায় ফুটফুটে তমান্না। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য-রাজনীতি। জয়ের আনন্দ মাটি হয়ে যায় শাসকদলের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে পেরেই পুলিসকে কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। গোটা রাজ্যে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করে সিপিএম। এদিন শুধু কালীগঞ্জে স্কুল-কলেজগুলিতে ধর্মঘট ডাকে এসএফআই। সকাল থেকে সেই কর্মসূচি সফল করতে স্কুলগুলিতে দাপিয়ে বেড়ায় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
দিনের শুরুতেই বেশ কয়েকটি ছবি ও ভিডিওকে প্রকাশ্যে আনে এসএফআই। তাতে দেখা যায়, কালীগঞ্জ ব্লকের পলাশী সংলগ্ন এলাকার পাঁচখেলা উচ্চ বিদ্যালয়, জানকিনগর হাইমাদ্রাসা, মিরা হাইস্কুল, পলাশী মীরা বালিকা বিদ্যানিকেতনে পঠনপাঠন বন্ধ করতে তৎপর এসএফআই। প্ল্যাকার্ড হাতে ধরিয়ে স্কুলের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় পড়ুয়াদের। তাতেই নাকি ধর্মঘট সফল! এমনটাই দাবি এসএফআইয়ের। সংগঠনের পলাশীর লোকাল কমিটির সভাপতি জুনেয়ত আখতার মণ্ডল বলেন, ‘তৃণমূলের বোমাবাজিতে ছোট্ট তমান্নার মৃত্যু হয়েছে। বিচার চাইতে ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আমাদের ডাকা ধর্মঘটে শামিল হয়েছে। ওদের একটাই দাবি, বোনের মৃত্যুতে দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই। আমাদের কর্মসূচি সফল।’ কালীগঞ্জের সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্যও একই সুরে বলেছেন, ‘বোমাবাজিতে এক সহপাঠীকে হারিয়েছে ওরা। বিচারের দাবিতে ওরা আজ এগিয়ে এসেছে।’
তবে, মীরা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মানিককুমার ঘোষ বলেন, ‘স্কুল শুরু হওয়ার আগে ওরা একটা পোস্টার টাঙ্গিয়ে দিয়ে চলে যায়। সেই সঙ্গে বলে যায়, স্কুল চালু করার দরকার নেই। কিন্তু, ছাত্ররা স্কুলে এলে আমাদের কিছু করার থাকে না। পঠনপাঠন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু উপস্থিতির হার অন্যান্য দিনের তুলনায় কম ছিল।’
তৃণমূল পরিচালিত কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালি খাতুনও বলছিলেন, ‘মোলান্দির ঘটনায় আমরা মর্মাহত। তবে, এভাবে স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক হয়নি। আমাদের ব্লকের সমস্ত স্কুলই খোলা ছিল। ধর্মঘটের কোনও প্রভাব পড়েনি।’ নিজস্ব চিত্র