


নয়াদিল্লি: আদালতের রায়ে সাময়িক স্বস্তি পেলেন মিনাল খান, তারিক বাটরা। আপাতত তাঁদের ভারত ছাড়তে হচ্ছে না। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর পাক নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। সেই অনুযায়ী নোটিস যায় মিনাল ও তারিকদের কাছে। মিনাল সম্পর্কে জম্মুর সিআরপিএফ জওয়ান মুনির খানের স্ত্রী। তারিকের দাবি দীর্ঘদিন পরিবার নিয়ে ভারতে রয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে বৈধ নথিও রয়েছে। ফলে দু’জনেই কোর্টের দ্বারস্থ হন। মিনালের পাকিস্তান যাত্রার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বস্তি পেয়েছেন তারিক।
গত বছর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের তরুণী মিনালকে বিয়ে করেছিলেন সিআরপিএফ জওয়ান মুনির। দীর্ঘ ন’বছর ধরে ভিসার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন তরুণী। চলতি বছরের মার্চেই স্বল্প মেয়াদের ভিসায় তিনি ভারতে আসেন। ২২ মার্চ তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছিল। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর পাক নাগরিকদের ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিস পান মিনালও। তবে শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে যেতে চাননি তিনি। সে কারণে আদালতের দ্বারস্থ হন। জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্ট আপাতত তাঁর পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পাকিস্তানি তরুণীকে বিয়ে করার জন্য ওই সিআরপিএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
অন্যদিকে, শুক্রবার তারিকের পরিবারের পাকিস্তানে ফেরায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টও। বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, তাঁদের পাসপোর্ট, আধার কার্ড, প্যানকার্ড সহ বিভিন্ন পরিচয়পত্রগুলি ফের খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি যাচাই করা হবে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও। এই মামলায় রায় না দেওয়া পর্যন্ত ওই পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। যদিও এই কাজের জন্য কোনও সময়সীমা বেঁধে দেয়নি শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, আবেদনকারীরা যদি চূড়ান্ত রায়ে সন্তুষ্ট না হন, সেক্ষেত্রে তাঁরা চাইলে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। তবে এই নির্দেশকে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। বিষয়টি মানবিকতার দিক থেকে বিবেচনা করা উচিত বলে জানিয়েছে বেঞ্চ। জানা গিয়েছে, তারিকের বাবা পাকিস্তানের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৮৭ সালে বৈধ ভিসায় পরিবার নিয়ে ভারতে আসেন তিনি। সীমান্তে পাকিস্তানি পাসপোর্ট জমা দেন। তারপর দীর্ঘদিন তাঁরা ভারতে রয়েছেন। তাঁদের কাছে বৈধ নথিও রয়েছে। কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আশ্বস্ত করেছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ ওই পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।