


সংবাদদাতা, বহরমপুর: প্রেম দিবসে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লাল গোলাপের দাম কমল অনেকটাই। রোজ-ডে’তে যা বাজারদর ছিল, তা দেখে প্রেমিক যুগলরা ভেবেছিলেন ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে বুঝি গোলাপে মন রাঙানো কঠিন হয়ে উঠবে। কিন্তু, ক’দিন গড়াতেই সেই ভাবনায় খানিক স্বস্তি। জেলার চাষিদের বাগিচার গোলাপ বিকোচ্ছে সাধ্যের মধ্যে। তবে, ভিনরাজ্য থেকে আসা গোলাপে দামের কাঁটা ফুটছে যুগলদের হাতে। সেগুলিকে ছোঁয়াই যাচ্ছে না বলে আক্ষেপ অনেকেরই!
শুক্রবার থেকেই বহরমপুর শহরে ফুলের দোকানগুলিতে ভিড়। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় গোলাপের আমদানি এবার প্রচুর। তাই একদিন আগে কিছুটা হলেও সস্তায় মিলছে। তবে, শনিবার চাহিদা বাড়লে দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, প্রেম দিবস উপলক্ষ্যে বহরমপুর শহরের রেস্তোরাঁগুলি ঢেলে সাজানো হচ্ছে। নতুম ডিস রাখা হচ্ছে। তারমধ্যে অন্যতম হল চাইনিজ কম্বো প্যাক।
রোজ ডে ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি। বহরমপুর শহরে স্থানীয় টকটকে লাল গোলাপ ২০ টাকা প্রতি পিস বিক্রি হয়েছে। ম্যাঙ্গালুরুর গোলাপের দর ছিল ৫৫-৬০ টাকা। রোজ ডে’তে চাহিদা ভালো থাকায় ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে বিক্রেতারা গোলাপের আমদানি অনেকটাই বাড়িয়েছেন। ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র একদিন আগে বহরমপুর শহরে লোকাল গোলাপ ১৫ টাকা প্রতি পিস বিক্রি হল। একসঙ্গে অনেকগুলি কিনলে প্রতি পিস ১২ টাকা পড়ছে। বহরমপুরে গির্জা মোড়ের ফুল বিক্রেতা লাল্টু হালদার বলেন, ‘স্থানীয় গোলাপের জোগান অনেক বেশি। তাই দাম কম। তবে, শনিবারের দাম চাহিদা অনুপাতে ওঠা নামা করবে। তবে, ম্যাঙ্গালুরুর বাই-কালার গোলাপের দাম এক ধাক্কায় বেশ বেড়েছে।’
এদিন বহরমপুর শহরে ম্যাঙ্গালুরুর গোলাপ ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফুল বিক্রেতা সতন ঘোষ বলছিলেন, ‘অধিকাংশ তরুণ-তরুণীদের নজর ম্যাঙ্গালুরুর গোলাপের দিকে। চাহিদার তূলনায় জোগানের ঘাটতি রয়েছে। তাই দাম বেশ বেশি।’ ফুল বিক্রেতাদের দাবি, দেশি গোলাপের তোড়ার চাহিদাও প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে বেশ ভালোই।
ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে গোলাপ বিনিময়ের পর খোঁজ রেস্তরাঁর। সেখানে নির্ভেজাল আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া। বেশ কয়েকবছর আগে মাঠে-ময়দানে-পার্কে যুগলরা যেতেন। এখন রেস্তোরাঁয় যাওয়ার ট্রেন্ড। প্রেমিক যুগলদের এমন ইচ্ছের কথা মাথায় রেখে শহরের রেস্তোরাঁ মালিকরাও প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন। অভিনব ব্যবস্থপনার পাশাপাশি হরেক মেনু তৈরি করছেন সকলেই। শহরের বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ মালিক ক্যান্ডেল ডিনারেরও ব্যবস্থা করেছেন। খগড়া এলাকার রেঁস্তোরা মালিক অর্ণব দাস বলেন, ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে স্পেশাল হিসাবে যেমন পাস্তা রাখা হয়েছে, তেমনিই চাইনিজ কম্বো প্যাকও রেখেছি। এরমধ্যে নুডলস-চিলি কম্বো প্যাক রয়েছে।’ মোহনা বাসস্ট্যান্ড এলাকার রেস্তরাঁ মালিক নিরঞ্জন পাল বলেন, ‘রেস্তরাঁ ঢেলে সাজানো হয়েছে। মটন মুর্শিদাবাদি বিরিয়ানি ও চিকেন মুর্শিদাবাদি বিরিয়ানি আমাদের স্পেশাল।’