Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

দেশে বাণিজ্য ঘাটতি ৬ মাসে সর্বোচ্চ, চীনের থেকে আমদানি বৃদ্ধি ২৮ শতাংশ

মে মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। চীন থেকে আমদানি ২৮% বৃদ্ধি, যা উদ্বেগজনক। বিস্তারিত পড়ুন।

দেশে বাণিজ্য ঘাটতি ৬ মাসে সর্বোচ্চ, চীনের থেকে আমদানি বৃদ্ধি ২৮ শতাংশ
  • ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মে মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৮০০ কোটি ডলার। জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ এক মাসের মধ্যেই ২০০ কোটি ডলার বেশি হয়েছে বাণিজ্য ঘাটতি। কিন্তু সবথেকে উদ্বেগজনক তথ্য হল, গত ৬ মাসের মধ্যে এখন বাণিজ্য ঘাটতি সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের মে মাসে কিন্তু বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৯০০ কোটি ডলার। কেন এই বিপুল ঘাটতি? কারণ হল, পণ্য আমদানি ৩১ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু রপ্তানির বৃদ্ধিহার ঠিক অর্ধেক। মাত্র ১৬ শতাংশ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চীন থেকে আমদানি চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৩৮০৪ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি হয়েছে। গত বছরের এই পর্বে তা ছিল ২৯৭৩ কোটি ডলার।  একইসঙ্গে চীনের সংস্থাকে ভারতের বাজারে স্বাগত জানানো হচ্ছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সেক্টরের চারটি সংস্থা চীনের সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইলেকট্রনিক্স সেক্টরও তাই। সুতরাং এখন আর চীন বয়কট নীতি নয়। 

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে বাণিজ্য মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ কিংবা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। কেন্দ্রীয় সরকারের সকলেই বিগত দু বছর ধরে স্বদেশির জয়গান গেয়েছেন। বিভিন্ন সভায় প্রধানমন্ত্রী দফায় দফায় বিদেশি পণ্য ক্রয় বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একঝাঁক পণ্যের যন্ত্রাংশ ও উপকরণের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে সেগুলি সস্তায় আমদানি করে স্বদেশেই পণ্য উৎপাদন করা যায়। কিন্তু স্বদেশির স্লোগান এবং উদ্যোগ যতটা প্রচারে পরিলক্ষিত হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যানে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। সরকারের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, স্বদেশি জাগরণ তো দূর অস্ত, উলটে  আমদানির পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। রপ্তানি যে পরিমাণ বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেটা হয়নি। রপ্তানিতে হ্রাস এবং আমদানি বেড়ে যাওয়ার জেরেই তৈরি হয় বাণিজ্য ঘাটতি। বাণিজ্য ঘাটতি জিডিপি বৃদ্ধিহারের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। 
অশোধিত তেল, সোনা এবং ইলেকট্রনিক্স উপকরণ, প্রধানত এই তিন পণ্যের আমদানির ব্যয় বেড়েছে।  আর সেই কারণেই আমদানি বিলও অনেক বেশি। জুন মাসে অশোধিত তেল আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুনে যে পরিমাণ অশোধিত তেল আমদানি হয়েছিল, চলতি বছরের জুনে তা ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে। কটন এবং সার আমদানি বিগত বছরের তুলনায় তিনগুণ বেড়েছে। ভারত থেকে সবথেকে বেশি পণ্য রপ্তানি হয় আমেরিকায়। অথচ সেই আমেরিকাতেই রপ্তানি কমে গিয়েছে। এক বছর আগে জুনে আমেরিকায় পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৮২৭০ কোটি ডলারের। সেটি কমে ৮২০০ কোটি ডলার হয়েছে। ভারতের উপর আমেরিকার চাপানো আমদানি শুল্ক এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ