উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি: মুক্তিযুদ্ধের পর ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষের হাত ধরে ধূপগুড়িতে রথযাত্রার সূচনা। ধূপগুড়ি মহকুমার সবচেয়ে পুরনো রথের মধ্যে অন্যতম শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রথ। কদমতলার রথযাত্রাও প্রাচীন। তবে, বর্তমান সময়ে ধূপগুড়ির ইসকনের রথযাত্রায় নতুন প্রজন্মের ঢল নামে। বাদ্যযন্ত্রের তালে হরে-কৃষ্ণ নামের মধ্যে দিয়ে রথযাত্রায় অংশ নেয় আট থেকে আশি।
১৯৭৩ সাল নাগাদ ধূপগুড়ি শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে রথযাত্রার সূচনা করেন পূর্ববঙ্গের কিছু মানুষ। এলাকার প্রবীণদের দাবি, এই রথের পরিচালনায় বেশিরভাগ মানুষই ছিল পূর্ববঙ্গীয়। তবে, বর্তমান সময়ে ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষ এই রথ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন। আর সেই থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মাঠ রথযাত্রার মাঠ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। বর্তমান রথযাত্রা কমিটির অন্যতম সদস্য দেবেন রায় বলেন, ১৯৭৩ সালে পূর্ববঙ্গীয় লোকজন এখানে রথযাত্রার সূচনা করেন। সেই থেকে এখানে রথ হয়ে আসছে।
ধূপগুড়ির রথযাত্রার মধ্যে অন্যতম বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কদমতলার রথ। প্রতিবছরই রথ উপলক্ষ্যে এখানে বিশাল মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই রথযাত্রায় অংশ নিতে। তবে ইসকনের রথযাত্রা ধূপগুড়িবাসীর মধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে। এ বছর ইসকনের ১৪তম রথযাত্রা। প্রতিবছর ধূপগুড়ির পূর্ব মাগুরমারিতে অবস্থিত ইসকনের রথযাত্রায় অংশ নেন কয়েক হাজার পুণ্যার্থী। ইসকনের রথে হয় বিশাল শোভাযাত্রা। ধূপগুড়ির ইসকনের রথযাত্রার অন্যতম কর্ণধার শ্যামসখা সহদেব দাস বলেন, আমাদের রথযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষ্ণ ভক্তরা আসেন। প্রথা অনুসারে এখানে রথের দড়ি প্রথম টানেন ধূপগুড়ির বিধায়ক। ইতিহাস গবেষক রতনচন্দ্র রায় বলেন, ধূপগুড়ির ২ নম্বর ওয়ার্ড ও কদমতলা রথ ধূপগুড়ি মহকুমার সবচেয়ে পুরনো রথ।