সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ফের বড়সড় সাফল্য পেল সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। মালদহের প্রতিবেশী ধুলিয়ান সংলগ্ন এলাকায় এক লক্ষ টাকার জালনোট সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করল তারা। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনায় ধুলিয়ান ফেরিঘাট এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম বাদল শেখ। সে মালদহ জেলার মোথাবাড়ি থানার পূর্ব তোফিগ্রামের বাসিন্দা। মালদহ থেকে হাতবদলের উদ্দেশ্যেই জালনোট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। কোথায় বা কাকে জালনোটগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা জানতে ধৃতকে হেপাজতে নিয়ে জেরা করবে পুলিশ। সোমবারই ধৃতকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। জালনোট চক্রে ওই যুবক ছাড়াও কে বা কারা জড়িত তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এক যুবকের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েক বান্ডিল জালনোট। গোনার পর দেখা যায়, সেখানে মোট এক লক্ষ টাকার জালনোট রয়েছে। এর পরেই বাদল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে ধুলিয়ানের কলাবাগান ঘাট এলাকায় এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। গোপন সূত্রে সেই খবর পৌঁছায় সামশেরগঞ্জ থানায়। খবর পাওয়ামাত্রই তৎপর হয়ে ওঠেন থানার আইসি-র নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল। কালক্ষেপ না করে রাতেই কলাবাগান ঘাট এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে সন্দেহভাজন ওই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। কিন্তু তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি মেলায় তল্লাশি চালানো হয় তার সাথে থাকা ব্যাগে। আর তাতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। ব্যাগে ৫০০টাকার জালনোটের বান্ডিল রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মালদহ থেকে ওই জালনোটগুলি সীমান্ত পেরিয়ে বা স্থানীয় কোনো হাত ঘুরে মুর্শিদাবাদে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল। ইতিপূর্বেও একাধিক জালনোট পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাধারণত পাচারকারীরা মালদহ থেকে ফারাক্কা ১২নম্বর জাতীয় সড়ককে করিডর হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই ধৃত যুবক শর্টকাট রাস্তা ধরে ফেরিঘাটে হয়ে নৌকায় মুর্শিদাবাদে প্রবেশ করে। তাতেও রক্ষা হয়নি। এই চক্রের পিছনে আর কার কার হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উদ্ধার হওয়া নোটগুলির কাগজ ও কালির গুণগত মান দেখে জালিয়াতদের আন্তঃরাজ্য পাচারের যোগসূত্রও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দারা। এই জালনোটের উৎস কী এবং তা কোথায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল, ধৃতকে হেপাজতে নিয়ে তা জানার চেষ্টা করছে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ।