Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাজারে ঘুরছে ৭০ কোটি টাকার নকল কয়েন, ২৫ বছর ধরে ‘ব্যবসা’, উত্তরপ্রদেশে কারখানা, ধৃত অভিযুক্ত

উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও বিহারজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল দেদার নকল কয়েন। বেশিরভাগই ২০ টাকার। অন্তত ২৫ বছর ধরে চলছিল এই নকল কয়েনের কারবার।

বাজারে ঘুরছে ৭০ কোটি টাকার নকল কয়েন, ২৫ বছর ধরে ‘ব্যবসা’, উত্তরপ্রদেশে কারখানা, ধৃত অভিযুক্ত
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সাহারানপুর: উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও বিহারজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল দেদার নকল কয়েন। বেশিরভাগই ২০ টাকার। অন্তত ২৫ বছর ধরে চলছিল এই নকল কয়েনের কারবার। অবশেষে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে নকল মুদ্রার সেই কারখানার হদিশ পেল পুলিশ। গ্রেপ্তার মূল পাণ্ডা উপকার লুথরা ওরফে অভয়প্রতাপ সিং সহ পাঁচজন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার জেলার তিত্রোন এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। তাদের দাবি, অন্তত সাড়ে তিন কোটি ২০ টাকার কয়েন ইতিমধ্যেই বাজারে ছড়িয়ে দিয়েছে ওই চক্র। অর্থাৎ, মোট ৭০ কোটি টাকার জাল কয়েন লোকের হাতে হাতে ঘুরছে। এছাড়া ওই কারখানা থেকে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার জাল কয়েন, অর্ধেক তৈরি হওয়া ৫ লক্ষ টাকার কয়েন এবং ছ’টি মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এলাকার পানশালা, রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে মুদিখানার দোকান, টোল প্লাজা সব জায়গাতেই নকল কয়েন ছড়িয়ে দিয়েছে এই চক্র।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত উপকার পাঞ্জাবের মোহালিতে স্বর্ণকার হিসাবে কাজ করত। সেই সূত্রেই মুদ্রা বানানোর কৌশল রপ্ত করে। ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণার পর ২০১৭ সালে দিল্লিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল উপকারকে। তবে ছাড়া পেয়েই সে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে এসে ফের ব্যবসা ফেঁদে বসে। বেশি লাভের জন্য ৫, ১০ টাকার কয়েনের বদলে ওই কারখানায় ২০ টাকার কয়েনই বেশি বানানো হত। জেরায় উপকার জানিয়েছে, পাঁচ টাকার কয়েন বানানোর জন্য যে পরিমাণ ধাতু লাগে এবং ঢালাইয়ের প্রয়োজন হয়, ২০ টাকার ক্ষেত্রেও সেই একই পরিমাণ খরচ। সেই কারণেই তাঁরা বাড়তি মুনাফার জন্য ২০ টাকার কয়েন বানানোর দিকেই বেশি নজর দেয়। 
পুলিশ যখন ওই জাল কয়েনের কারখানার হদিশ পায়, তখন আসল ও নকল কয়েন আলাদা করতে পারেনি। এতটাই নিখুঁতভাবে ওই নকল মুদ্রা বানানো হয়েছে, যে সাধারণ মানুষের পক্ষেও তা বোঝা কঠিন।  উপকারের কারখানা থেকে বেশ কয়েকটি নোটবুক উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে বিভিন্ন নাম লেখা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নকল কয়েন কোথায় এবং কার কাছে পাচার করা হবে সেই তালিকাই ওই নোটবুকে লেখা রয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ