নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের আরও এক কাউন্সিলারের ঠাঁই হল শ্রীঘরে! তিনি কলকাতা পুরসভার ৭ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন সুস্মিতা ভট্টাচার্য চট্টোপাধ্যায়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর স্বামী সলিল চট্টোপাধ্যায়কেও। পুলিশ জানিয়েছে, এক অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীকে ভয় দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের। ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর ইনস্যুরেন্সের টাকা হাতানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার সকালে ওয়াটগঞ্জ থানার আধিকারিকরা গ্রেপ্তার করেন দম্পতিকে।
অভিযোগকারীর নাম অমিত রায়। খিদিরপুরের হরিসভা স্ট্রিটের বাসিন্দা ওই ৬৪ বছরের বৃদ্ধ রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। ২০২০ সালে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়। একমাত্র কন্যার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, বহুদিন ধরেই কাউন্সিলারের স্বামী সলিল চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ। আদতে ব্যবসায়ী হলেও একাধিক ইনস্যুরেন্স কোম্পানির এজেন্ট হিসাবে কাজ করেন সলিল। অভিযোগ, আলাপচারিতার সূত্রেই কার্যত জোর করে অমিতবাবুকে দিয়ে দু’টি ইনস্যুরেন্স করান সলিল। টাকা ফেরতের বিষয়ে বৃদ্ধকে আশ্বস্ত করেন কাউন্সিলার স্বয়ং। বৃদ্ধের দাবি, নিজের পদের কথা বলে টাকা ফেরতের ব্যাপারে ভরসা দেন কাউন্সিলার। দু’টি ইনস্যুরেন্সের প্রিমিয়াম বাবদ প্রাথমিকভাবে ১২ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। অমিতবাবুর দাবি, এরপরে এককালীন আরও ১৩ লক্ষ টাকা চাওয়া হয় তাঁর কাছে। প্রথমে তিনি কিছুতেই সেই টাকা দিতে রাজি হননি। টাকা না দিলে খুন করার হুমকি দেয় অভিযুক্ত। তখন তিনি ওই টাকাও দিতে বাধ্য হন। এরপর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি তিন অপরিচিত ব্যক্তি নিজেদের ইনস্যুরেন্স কোম্পানির এজেন্ট পরিচয় দিয়ে অভিযোগকারীর বাড়িতে পৌঁছে যায়। দু’টি ইনস্যুরেন্স রিটার্ন বাবদ যাবতীয় টাকা কাউন্সিলার সুস্মিতা ভট্টাচার্য চট্টোপাধ্যায়ের নামে ট্রান্সফার করে দিতে হবে বলে চাপ দেওয়া হয়। ৩১ জানুয়ারি একই দাবি নিয়ে ফের খিদিরপুরের বাড়িতে এজেন্ট পরিচয়ে কিছু দুষ্কৃতী চড়াও হয় বলে অভিযোগ।
ওই টাকা না দেওয়ায় ৩ মার্চ খিদিরপুর বাজারে বৃদ্ধকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সলিল চট্টোপাধ্যায়কে নিশানা করে অভিযোগপত্রে অমিতবাবু জানিয়েছেন, ওই দিন সকালে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন কাউন্সিলারের স্বামী। প্রকাশ্য রাস্তায় চড়, কিল মারা হয়। তাঁর কান থেকে রক্ত বেরতে থাকে। মারধরের পাশাপাশি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় তাঁকে। মারধরের পর আরও ৪ লক্ষ টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। অমিতবাবুকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন তাঁর মেয়ে। ওই দিনই ওয়াটগঞ্জ থানায় কাউন্সিলারের স্বামীর বিরুদ্ধে জেনারেল ডায়েরি করেন বৃদ্ধ। সেই সময় তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীর। রাজ্যে পালাবদল হতেই সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এফআইআর রুজু করে অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। লালবাজারের দাবি, এই ঘটনায় কাউন্সিলার জড়িত রয়েছেন পরোক্ষভাবে। তাই মূল অভিযুক্তের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।