


ঢাকা: ঝুলি থেকে বেড়ালটা শেষপর্যন্ত বেরিয়েই পড়ল। জুলাই আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকায় কায়েম হয় মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে তদারকি সরকার। তাদের দেড় বছরের শাসনকালে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর ফুলেফেঁপে উঠেছেন ইউনুস জমানার উপদেষ্টারা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি সরকার। আর এরপরই একের পর এক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। তালিকায় রয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর মতো নাম।
তবে সবচেয়ে বড় খেল দেখিয়েছেন ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। ৫৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন ইউনুসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ। পদমর্যাদায় তিনি ছিলেন রাষ্ট্রমন্ত্রীর সমতুল্য। বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃত। সেই সুবাদে ফয়েজ নেদারল্যান্ডসের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। এখন তিনি ডাচভূমেই রয়েছেন বলে খবর।
হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে ‘ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন আসিফ নজরুল। তাঁর সময়ে দাগী আসামিদের জেল থেকে ছেড়ে দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন জানা যাচ্ছে, দাগীদের ছেড়ে দেওয়া বাবদ বিপুল ঘুষ নিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে আসিফের সহযোগী ছিলেন তাঁর স্ত্রী শীলা আহমেদ। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিকের মতো রাঘব বোয়ালদের ‘দায়মুক্তি’ দিয়ে দম্পতি কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁরা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন বলে দাবি।
দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ ইউনুসের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘রাজাকার কন্যা’ তকমা দিয়েছে। অভিযোগ, তিনি ও তাঁর স্বামী মিলে গত ১৮ মাসে প্রাক্তন বিদ্যুৎ রাষ্ট্রমন্ত্রী নসরুল হামিদের ৪ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া জলবায়ু তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং জল সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নদী ভরাট না করেই লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পিছিয়ে নেই সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীও। গণভবনে ‘কল্পকাহিনী’ তৈরি করে জাদুঘর নির্মাণ এবং ড্রোন শো আয়োজনের নামে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তাঁর ভাইকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে বসিয়ে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লুট করেছেন বলে অভিযোগ।