Bartaman Logo
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্নীতি: ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার উলুবেড়িয়ার সাব রেজিস্ট্রার

হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার সাব ইনসপেক্টর ও সাঁকরাইলের নাজিরগঞ্জ ফাঁড়ির কনস্টেবলের পর এবার উলুবেড়িয়ার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার জীবনকৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা।

দুর্নীতি: ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার উলুবেড়িয়ার সাব রেজিস্ট্রার
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার সাব ইনসপেক্টর ও সাঁকরাইলের নাজিরগঞ্জ ফাঁড়ির কনস্টেবলের পর এবার উলুবেড়িয়ার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার জীবনকৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। সোমবার দুপুরে নিজের অফিসে বসেই ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন পুলিশ আধিকারিকরা। অভিযোগ, সম্প্রতি এক ব্যক্তির একটি জমি রেজিস্ট্রির জন্য জীবনকৃষ্ণ দাস একজন ল’ ক্লার্কের কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এরপর ওই ল’ ক্লার্ক পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখায় অভিযোগ দায়ের করেন। বলেন, জমি রেজিস্ট্রির জন্য ওই সরকারি কর্মী ঘুষ চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এই অভিযোগ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা ফাঁদ পাতেন। তাঁরা একটি নির্দিষ্ট টাকার গায়ে কেমিকেল মাখিয়ে সেই নোট দিতে বলেন অভিযুক্তকে। এদিন দুপুরে নিজের চেম্বারে বসে ওই টাকা যখন নিচ্ছিলেন জীবনকৃষ্ণ, সেই সময় পুলিশের আধিকারিকরা আচমকা ঘরে ঢুকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তাঁকে। পরে তাঁকে জলের পাত্রে হাত ধুতে বললে ওই জল রঙিন হয়ে যায়। এরপরই জীবনকৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

Advertisement

অভিযোগকারী ল’ ক্লার্ক দীনবন্ধু কর অভিযোগ করেন, ১০ শতকের একটি জমি রেজিস্ট্রি করতে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। এই কাজের জন্য ওই আধিকারিক তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এই ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও বহু জমি রেজিস্ট্রি বা অন্যান্য কাজে আসা লোকজনের থেকে টাকা চাইতেন জীবনকৃষ্ণ দাস। বিভিন্ন আইনজীবী ও ল’ ক্লার্কদের তিনি এই কাজে ব্যবহার করেন। তাঁদের মারফত টাকা নেন এই আধিকারিক। দীনবন্ধুবাবুর অভিযোগ, আমি বিষয়টি রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখায় জানিয়েছিলাম। এরপর এদিন টাকা হাতবদলের সময় সাব-রেজিস্ট্রারকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন অফিসাররা।
দীনবন্ধু করের অভিযোগ, গত ২২ ও ২৩ আগস্ট আমি দু’টি দলিলের জন্য তাঁর কাছে গেলে তিনি ১০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। আমি প্রথমে ছ’হাজার টাকা দিলেও পরে তিনি বাকি চার হাজার টাকা চেয়ে নিয়েছিলেন। এদিকে, এদিন জীবনকৃষ্ণ দাস ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে পাকড়াও হওয়ার পর নিমেষে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ল’ক্লার্ক থেকে শুরু করে প্রচুর সাধারণ মানুষ রেজিস্ট্রি অফিসে হাজির হয়ে জীবনকৃষ্ণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ