Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেলডাঙায় কৃষকবন্ধুতে দুর্নীতি, জমি বেশি দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ

মুর্শিদাবাদ জেলায় কৃষকবন্ধু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। এই প্রকল্পের আওতায় থাকা চাষিদের নিজস্ব এক একর বা তার বেশি চাষযোগ্য জমি থাকলে বার্ষিক ভাতা হিসেবে বছরে দু’ দফায় ১০ হাজার টাকা, আর এক একরের কম চাষযোগ্য জমি থাকলে বার্ষিক ৫ হাজার টাকা ভাতা হিসেবে দু’ দফায় দেওয়া হয় চাষিদের।

বেলডাঙায় কৃষকবন্ধুতে দুর্নীতি, জমি বেশি দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

অভিষেক পাল, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় কৃষকবন্ধু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। এই প্রকল্পের আওতায় থাকা চাষিদের নিজস্ব এক একর বা তার বেশি চাষযোগ্য জমি থাকলে বার্ষিক ভাতা হিসেবে বছরে দু’ দফায় ১০ হাজার টাকা, আর এক একরের কম চাষযোগ্য জমি থাকলে বার্ষিক ৫ হাজার টাকা ভাতা হিসেবে দু’ দফায় দেওয়া হয় চাষিদের। সেই টাকা সরাসরি চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। কিন্তু বেলডাঙা-২ ব্লকের বেশকিছু চাষির অভিযোগ, যাঁদের কম কৃষিজমি আছে তাঁদেরও ১০ হাজার টাকা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই কারচুপির জন্য চাষের জমির পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ব্লকে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নাম তুলতে গেলেও টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসেছেন কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা। 

Advertisement

বেলডাঙা-২ ব্লকের চাষিদের অভিযোগ, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নাম তুলতে গেলে দালাল মারফত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাজার দু’ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। কেউ যদি অফিসে সরাসরি ফর্ম জমা করেন, বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দু’-তিনবার তাঁর আবেদন খারিজ করা হচ্ছে। ব্লকের কৃষি আধিকারিক (এডিএ) বিষয়টি জানেন বলেই দাবি চাষিদের। তাঁকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি, বরং কৃষকবন্ধু প্রকল্পের যাবতীয় কাজ চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্লক অফিসে বসে এমনই এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীর মাধ্যমে লাগাতার টাকা লেনদেন হয়েছে বলেই অভিযোগ। 
কয়েকজন চাষি জানিয়েছেন, অনেকের জমির পরিমাণ খুবই সামান্য। তাঁদের জমির পরিমাণ বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে চাষিদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা তোলা হচ্ছে। এমনকী, যাঁদের নিজের নামে জমির রেকর্ড নেই, তাঁদেরও কম্পিউটারে জমির কাগজ এডিট করে কৃষকবন্ধু করে দেওয়া হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন এক চাষি। 
এই বিষয়ে জেলার উপকৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) মোহনলাল কুমার বলেন, এই অভিযোগ সঠিক নয়। যে কর্মচারীর নামে অভিযোগ এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এডিএর নাম যে বলছে, সেটা সঠিক নয়। এডিএর সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। যদি সমস্যা কিছু থেকে থাকে, আমরা জেলাস্তর থেকে তা তদন্ত করে দেখছি।  
মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প এই কৃষকবন্ধু। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের আর্থিক সাহায্যে চাষিদের জীবনের মানোন্নয়ন হয়েছে। রাজ্যের মধ্যে কৃষকবন্ধুর আর্থিক সহায়তা পাওয়া জেলাগুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদ উপরের দিকেই আছে। সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে। রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি গুরুতর। যদি চাষিদের বঞ্চিত করে কেউ এই ধরনের অনৈতিক কাজ করে থাকে, তাহলে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই কাজে যদি কোনও আধিকারিক জড়িত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে যাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে বলব। 

সম্পর্কিত সংবাদ