Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুলিশের ডিসি অফিসেই দুর্নীতি, ধৃত কর্মী, ভুয়ো বিল, থানার জন্য কেনা এসি-টিভি অফিসারদের বাড়িতে

কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসে ৫১ লক্ষ টাকার দুর্নীতি ধরা পড়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে হেড ক্লার্ক পুলকেন্দ্র ঘোষকে। বিস্তারিত পড়ুন।

পুলিশের ডিসি অফিসেই দুর্নীতি, ধৃত কর্মী, ভুয়ো বিল, থানার জন্য কেনা এসি-টিভি অফিসারদের বাড়িতে
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সর্ষের মধ্যেই ভূত! খোদ কলকাতা পুলিশের ডিসি (ইস্ট ডিভিশন) অফিসে এবার লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। অভিযোগের বহরও রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। সরকারি টাকায় কেনা কম্পিউটার, টিভি মায় এসি পর্যন্ত চলে গিয়েছে পুলিশ আধিকারিকদের বাড়িতে। তাঁদের ব্যক্তিগত কাজকে অফিসের কাজ বলে দেখিয়ে ভুয়ো বিল জমা করে তুলে নেওয়া হয়েছে টাকা। গত পাঁচ বছর ধরে চলা এই কারবার নিয়ে অভিযোগ উঠতেই আনন্দপুর থানায় দুর্নীতি দমন আইনে মামলা রুজু হয়। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই ডিসি অফিসের হেড ক্লার্ক পুলকেন্দ্র ঘোষকে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর সঙ্গে একাধিক ‘রাঘববোয়াল’ জড়িত। তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে লালবাজার। 

Advertisement

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ডিভিশনের থানার জন্য লাইট, পাখা, চেয়ার-টেবিল, এসি থেকে শুরু করে নানা সামগ্রী কিনতে হয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মেটানো হয় সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের জন্য বরাদ্দ তহবিল থেকে। ডিসি অফিসের হেড অ্যাকাউন্ট বিভাগ বিষয়টি দেখভাল করে। বিভিন্ন কোম্পানি বা বিক্রয়কারী সংস্থার জমা দেওয়া বিল খুঁটিয়ে দেখেন হেড ক্লার্ক। তারপর সংশ্লিষ্ট ডিসি সেই বিলে সই করলে টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়। গত পাঁচ-ছ’ বছরে যথারীতি ডিসি ইস্ট ডিভিশনকে তাদের অন্তর্গত ৬টি থানা ও নিজস্ব অফিসের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই টাকায় কোনো থানার জন্য এসি বা কম্পিউটার, কোনো থানার জন্য টিভি কেনার কথা। এই সামগ্রীগুলি সত্যিই কেনা হয়েছে, নাকি কেবল খাতায়কলমে দেখানো হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে কিছুদিন আগে অডিট শুরু হয়। আর তাতেই বড়োসড়ো কেলেঙ্কারি সামনে আসে। দেখা যায়, অফিসের জন্য কেনা কম্পিউটার অফিসে নেই।  সেটি পৌঁছে গিয়েছে এক অফিসারের বাড়িতে! সেটি কীভাবে অফিসারের বাড়িতে চলে গেল, তা জানতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়। তখন জানা যায়, শুধু কম্পিউটার নয়, এসি, টিভির মতো নানা সামগ্রী কেনা হয়েছে সরকারি টাকায়। তারপর তা পৌঁছে গিয়েছে কোনো কোনো আধিকারিকের বাড়িতে। এখানেই শেষ নয়! খাতায়কলমে বিভিন্ন সামগ্রী কেনা হয়েছে বলে দেখানো হলেও বাস্তবে ভুয়ো বিল জমা করে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে উঠে আসে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে। যেসব সংস্থার বিল জমা পড়েছে, দেখা যায়, সেগুলির অস্তিত্বই নেই। সেই টাকা চলে গিয়েছে ইস্ট ডিভিশনের হেড ক্লার্ক পুলকেন্দ্র ঘোষের পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। 
রাজ্যে পালাবদলের পর এই দুর্নীতির খবর পৌঁছায় লালবাজারে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৫১ লক্ষ টাকার দুর্নীতি ধরা পড়ে বলে খবর। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে লালবাজারের নির্দেশে এফআইআর করে তদন্তে নামে আনন্দপুর থানা। সেই মতো দুর্নীতি দমন আইনে মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার করা হয় পুলকেন্দ্রকে। তদন্তে আরও জানা যায়, বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিক নিজেদের বাড়ির বিভিন্ন কাজ করিয়ে ইস্ট ডিভিশনের তহবিল থেকে খরচ মিটিয়েছেন। অভিযোগ, সেক্ষেত্রে কোনো থানা বা অফিসের কাজ দেখিয়ে ভুয়ো বিল তৈরি করা হয়েছে। সেই বিল জমা করেই টাকা মেটানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এর পিছনে বড়ো একটি চক্র সক্রিয়। যেসব আধিকারিক ভুয়ো বিলগুলি ছেড়েছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, পালাবদলের পর ভেঙে দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশের ওয়েলেফয়ার কমিটি। ধৃত পুলকেন্দ্র ঘোষ ওই কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ