


সিমলা: হিমাচল প্রদেশের শান্ত ছোট্ট গঞ্জ থুয়াং। ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ মিলিয়ে মান্ডি বিধানসভার এই গঞ্জে আট হাজার মানুষের বাস। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চিন্তার ঘুম উড়েছে এই জনপদের। ভূমিধস আর বন্যার জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন। তবে তাঁদের দুশ্চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়েছে হিমাচল প্রদেশ স্টেট কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের বেহাল দশা। ব্যাঙ্কের একতলা জলা-কাদা আর ধ্বংসবশেষে ভরে গিয়েছে। বহু পুরনো ব্যাঙ্ক হওয়ায় প্রায় সব পরিবারেরই অ্যাকাউন্ট রয়েছে এখানে। রয়েছে বহু লকারও। এই অবস্থায় নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ফিরে পাওয়া নিয়ে সন্দিহান এলাকার প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী। ব্যাঙ্ক কর্মীরাও আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। নিরাপত্তাকর্মীদেরও দেখা নেই। এই অবস্থায় চুরির সম্ভাবনা বাড়ছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীই ব্যাঙ্ক পাহারা দিতে শুরু করেছেন। কবে সুদিন ফিরবে, সেই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে তাদের।
২০ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে অন্তত ২৩টি হড়পা বান হয়েছে। এছাড়া ১৯ বার মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং ১৮টি বড়সড় ভূমিধসের সাক্ষী হিমালয়ের কোলের এই রাজ্য। মৃত্যু হয়েছে ৭৮ জনের। ৩৭ জন এখনও নিখোঁজ। জখম ১১৫ জন। মঙ্গল ও বুধবারের জন্য ‘ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সিরমাউর, কাংরা এবং মান্ডি জেলার জন্য আবহাওয়ার লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। সিমলা, সোলান, হামিরপুর, বিলাসপুর, উনা, খুল্লু এবং ছাম্বার জন্য কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। বন্যায় বেসামাল হিমাচল প্রদেশের পাশের রাজ্য উত্তরাখণ্ডও। অলকানন্দা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রুদ্রপ্রয়াগ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
এদিকে, নিজের মন্তব্যের সাফাই দিলেন মান্ডির বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। রবিবার বন্যায় বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কাছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার তহবিল নেই। আমি কোনও ক্যাবিনেট মন্ত্রীও নই।’ কঙ্গনার এই মন্তব্য নিয়ে সমলোচনার ঝড় বয়ে যায়। সোমবার তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে কেবল আমার সীমিত ক্ষমতার কথা জানিয়েছি। সাংসদ হিসেবে এলাকার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা আমার দায়িত্ব। স্থানীয়দের বলেছি আমার দল সব সমস্যা মেটাবে।’