Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মঙ্গলকোটের মাজিগ্রামে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি ধুঁকছে! পোড়ো ঘরেই চলে রান্না, পঠন পাঠন শিকেয়

শৈশবে শিশুদের অ, আ, ক, খ শেখার কথা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে৷ অথচ সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেই পঠন পাঠন এখন শিকেয় উঠেছে৷

মঙ্গলকোটের মাজিগ্রামে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি ধুঁকছে! পোড়ো ঘরেই চলে রান্না, পঠন পাঠন শিকেয়
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া:  শৈশবে শিশুদের অ, আ, ক, খ শেখার কথা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে৷ অথচ সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেই পঠন পাঠন এখন শিকেয় উঠেছে৷  বিপজ্জনক ভাঙা ঘরেই চলছে অঙ্গনওয়াড়ি৷ তিনমাস ধরে ভরতুকির টাকা আসছে না। গয়না বন্ধক রেখে মুদির বিল মেটাতে হচ্ছে৷ মঙ্গলকোটের মাজিগ্রামে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির এমনই কঙ্কালসার চেহারা। ক্ষুব্ধ গ্রামের বাসিন্দারা। 

Advertisement

মঙ্গলকোটের মাজিগ্রাম সর্দারপাড়া ১০২ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্না হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে৷ গোটা ভবন ভেঙে পড়ছে৷ ছাদের চাঙর খসে পড়ছে৷ শিশুদের পড়াশুনার জন্য যে ঘর রয়েছে৷ তা যে কোনো মুহূর্তে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা৷ সাপের আড্ডা হয়ে গিয়েছে ঘরে। তাই গত একবছর ধরে সেখানে পঠন-পাঠন বন্ধ রয়েছে৷ সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ জন শিশু ও প্রসূতির রান্না হয়৷ বৃষ্টি পড়লে কারও বাড়িতে রান্না করতে হয়৷ 
পাশাপাশি মাজিগ্রামের বাসস্ট্যাণ্ড পাড়ার ২১৮ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব কোনো ভবন নেই৷ মাজিগ্রাম অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলে কেন্দ্রটি চালানো হয়৷ সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫৩ জনের রান্না হয়৷  কর্মী টগরী দলুই বলেন, মে থেকে তিন মাসের ভরতুকির টাকা দিচ্ছে না। আমি আমার পাঁচ আনা গয়না বন্ধক দিয়ে ১০ হাজার টাকা ঋণ করেছি। মুদির দোকানে ধারে আর ডিম দেবে না বলে দিয়েছে৷ এভাবে চললে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটিই বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷ এদিকে গ্রামের পূর্বপাড়ায় রয়েছে ১০৫ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। সেখানে ৭০ জনের রান্না হয়৷ ওই কেন্দ্রের অবস্থাও তথৈবচ। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী কমলা হাজরা চৌধুরী বলেন, তিন মাস ধরে টাকা আসছে না৷ ডিম প্রতি পিস এখন ৮ টাকা করে৷ অথচ আমাদের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বরাদ্দ বাড়ছে না৷ কীভাবে চালাব বুঝতে পারছি না৷ 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাজিগ্রামে ছ’টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে৷ প্রত্যেকটাই ধুঁকছে৷ কোনোটার রান্না হয় চালাঘরে৷ আবার কোনোটির রান্না হয় উঠোনে। মাজিগ্রামের বিজেপি নেতা সৌমেন মুখোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের আমলে রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন শশী পাঁজা৷ মাজিগ্রামে তাঁর শ্বশুড়বাড়ি৷ প্রতি বছর তিনি এগ্রামে আসতেন৷ গালভরা নানা প্রতিশ্রুতি দিতেন৷ অথচ তাঁর শ্বশুড়বাড়ি গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির যে বেহাল অবস্থা, সেটা তিনি ভ্রুক্ষেপ করেননি৷ আমাদের সরকার এবার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির দিকে নজর দেবে৷ কারণ শিশুদের পুষ্টির জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের গুরুত্ব অপরিসীম৷ 
কাটোয়া মহকুমা জুড়ে অসংখ্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের এখনও কোনো নিজস্ব ছাদ গড়ে ওঠেনি৷ জানা গিয়েছে,  কাটোয়া -১ ব্লকে ২৮৮টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে৷ যেখানে শিশু সহ প্রসূতি মায়েদের জন্য পুষ্টিকর রান্না হয়। কিন্তু মাত্র ৬৭ টি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন রয়েছে৷ আর বাকি ২২১ টি কেন্দ্রের কোনও ভবন নেই৷ 
মূল সমস্যা হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গড়তে নাকি জায়গার সমস্যা হচ্ছে৷ মঙ্গলকোটে ৩৫৭টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে৷ তার মধ্যে এখনও অনেক কেন্দ্রের নিজস্ব কোনো ছাদ নেই৷ বাসিন্দারা চাইছেন পরিবর্তনের সরকার এসেছে৷ এবার অন্তত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গুলির হাল ফিরুক৷ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ