


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি: গ্যাসের সংকট। তাই শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি জেলায় স্কুলে মিড ডে মিল প্রকল্প চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষাদপ্তর। তারা এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউ কেউ জ্বালানি কাঠ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সচল রাখার কথা ভাবছেন। আবার কেউ কেউ কোভিড মহামারীর সময়ের মতো এখন চাল, ডাল, আলু প্যাকেট করে পড়ুয়াদের মধ্যে বিলি করার চিন্তা করছেন। একইসঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকটের মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প মা ক্যান্টিনও। আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে শিলিগুড়িতে চারটি ক্যান্টিন বন্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা। তা হলে ৫ টাকায় মধ্যাহ্নভোজ করা নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়বে বহু মানুষ।
শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলায় প্রাথমিক, জুনিয়ার হাই ও হাই মিলিয়ে স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৫০০টি। এরমধ্যে প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা সর্বাধিক, ৩৯০টি। এতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। গ্যাসের সংকটের জেরে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল রান্না করা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা। প্রশাসন সূত্রে খবর, স্কুলগুলিতে গ্যাসে রান্না করা হয়। এজন্য সপ্তাহে দু’টি করে সিলিন্ডার দরকার। অধিকাংশ স্কুলেই সিলিন্ডার ফাঁকা হওয়ার মুখে।
শিলিগুড়ি পুরসভার মিড ডে মিল বিভাগের মেয়র পারিষদ অভয়া বসু বলেন, এই শহরে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি শিক্ষা জেলার স্কুল রয়েছে। দু’টি এলাকা থেকেই রান্নার গ্যাসের সংকটের অভিযোগ মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা প্রশাসন এবং জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। গ্যাস নিয়ে সমস্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরসভায় জানাতে বলা হয়েছে স্কুলগুলিকে।
এ বিষয়ে আজ, বৃহস্পতিবার সাতটি সার্কেলের এসআইদের কাছ থেকে মিড ডে মিল প্রকল্প সম্পর্কে শিলিগুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান দিলীপ রায় রিপোর্ট তলব করবেন বলেই খবর। তিনি বলেন, এখনও গ্যাসের সংকট নিয়ে কোনো অভিযোগ মেলেনি। তবে এসআইদের কাছ থেকে সম্পর্কে রিপোর্ট চাইব। তা মেলার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেব। এদিকে, কাঠের উনুনে মিড ডে মিলের রান্না শুরু করল জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরূপ দে বলেন, আমাদের স্কুলে রোজ প্রায় ৯০০ ছাত্রীর মিড ডে মিলের রান্না হয়। সেক্ষেত্রে একটা গ্যাস সিলিন্ডার বড়জোর তিনদিন চলে। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে গ্যাস ঠিকমতো পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সেকারণে মঙ্গলবার থেকে আমরা কাঠের উনুনে রান্না শুরু করেছি। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আগে থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে কাঠের উনুন তৈরি করা ছিল। সকালে স্কুল হওয়ায় কম সময়ের মধ্যে রান্না শেষ করতে হয়। কখন গ্যাস ফুরিয়ে যাবে, তার ঠিক নেই। সেকারণে আমরা কাঠের উনুন তৈরি করে রেখেছিলাম। সেটা এখন কাজে লাগছে।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ি শহরে মা ক্যান্টিনগুলিও গ্যাস সিলিন্ডার বুক করতে পারছে না। পুরসভা সূত্রে খবর, শহরে সাতটি ক্যান্টিন রয়েছে। সেগুলির মধ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড সহ চারটি ক্যান্টিন সিলিন্ডারের সংকটের কথা জানিয়েছে। সেগুলিতে সিলিন্ডার আর দুই থেকে তিনদিন চলবে। এরপর সেগুলি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।